আকাশবাণী ও মহিষাসুরমর্দিনী
আশীষ কুমার চক্রবর্তী,
কলকাতা
কত না গন্ধে বর্ণে বর্ণে বৈচিত্র্য এই শরতে
যা কিছু সকলই লাগে মনোরম আজিকে শারদ প্রভাতে।
তোমার আলোর বেণুতে সারা ভুবন মাতোয়ারা
মহামায়ার হবে আগমন বহিছে আনন্দধারা।
মহালয়ার অমাবস্যা শেষে মহাষষ্ঠি তিথিতে
মহামায়ার পুজোর শুরু হবে মায়ের বোধনে।
শারদোৎসবে বড় প্রাসঙ্গিক আকাশবাণী ও মহিষাসুরমর্দিনী
প্রভাতী অনুষ্ঠানে আকাশবাণীর অবদান নিয়ে লিখব কাহিনী।
মহালয়ার দিনের প্রভাতী অনুষ্ঠান "মহিষাসুরমর্দিনী"
বিখ্যাত সেই অনুষ্ঠান সম্প্রচারন করতো আকাশবাণী ।
দূর্গাপুজোর মন্ত্র এবং দেবী চণ্ডীর স্তোত্রে স্থান পায় এই অনুষ্ঠান
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ।
এমন জনপ্রিয় অনুষ্ঠান আকাশবাণী কলকাতার নেই বেতার ইতিহাসে।
বেতার ইতিহাসের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা
মহিষাসুর বধের কাহিনী এবং চিহ্নিত করে দুর্গাপুজোর সূচনা।
ভক্তিগীতি,ধ্রুপদী সংগীতে পঙ্কজ মল্লিকের সুর সৃষ্টিতে,
অনবদ্য হয়ে ওঠে বানীকুমারের রচনা,বীরেন ভদ্রের স্তোত্রে।
উনিশশো সাঁইত্রিশ থেকে ছেষট্টি অবধি
আকাশবাণীর অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো সরাসরি।
সকল শিল্পী কুশলীরা স্নান করে শুদ্ধ দেহে শুভ্র পরিধানে
সুন্দর মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করতেন মহালয়ার ভোরে।
ছেষট্টি সালে মহিষাসুরমর্দিনীর
রেকর্ডিং করা হয়
আকাশবাণী থেকে মহালয়ার ভোরে আজো প্রচারিত হয়।
আকাশবাণী জনরোষের শিকার হয় ছিয়াত্তর সালে
অন্য একটি প্রভাতি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় বলে।
আকাশবাণী কতৃপক্ষ সেই বছরের ষষ্ঠিতে
"মহিষাসুরমর্দিনী"প্রচার করেছিল বাধ্য হয়ে।
পৌরাণিক পটভূমিতে আধারিত বৈদিক মন্ত্র সমন্বিত,
বৈচিত্র্যময় রাগাশ্রিত স্তোত্র ও সুরে,
শারদোৎসবে এই অতুলনীয়, অদ্বিতীয় অনুষ্ঠান,
গানে গানে ভরে দেয় আলো প্রাণে,দেবীর আবাহনে।