বসন্তে নিজেকে সুস্থ রাখুন

সুচিত্র রঞ্জন পুরকাইত,

ডায়মন্ডহারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

বসন্ত মানেই আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাই সুস্থ থাকুন সুস্থ রাখুন।
শীত পেরিয়ে চারপাশে চলছে বসন্তের আবহাওয়া।
তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে রোগ-জীবাণুও কিন্তু বসে থাকে না। সুযোগ পেলে এরাও আপনার শরীরে রোগ বাঁধিয়ে উৎসবে মেতে উঠবে। আর এই সময় শরীর খারাপ হওয়ার এক আদর্শ সময়। সূর্যের রশ্মির তীক্ষ্ণতা ক্রমশই বাড়ছে, শুষ্কতা এবং রুক্ষতার সঙ্গেই হালকা ঘাম, ঠান্ডা -গরম ইত্যাদি আপনাকে অনায়াসে কাহিল করতে পারে। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে নেওয়াই ভালো, যেন রোগ-জীবাণু আক্রমণ করতে না পারে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক বসন্তে ভালো থাকার উপায়গুলো।

১. ঠান্ডা যেহেতু এখন কম, তাই বসন্তে ভালো থাকার প্রধান শর্ত হলো নিয়মিত স্নান করা। এতে ধুলো-ময়লা কমবে। অ্যালার্জি, ভাইরাসজনিত রোগ সবই কিন্তু কমে যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে।

২. বসন্ত এলেও শীত কিন্তু একদম চলে যায়নি, তাই শীতের লেপ/কম্বল উঠিয়ে ফেললেও হালকা কোন বেডশীট সঙ্গে রাখুন। শিশুরা অনেক ঘামে, তাই তাদের জন্য ফ্যান ছেড়ে রাখতে হয়। তবে আপাতত রাতে এসি চালু না রাখাই ভালো।

৩. বসন্তে ফুলের রেণু ও ধুলোবালি থেকে অনেকের হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে। শ্বাস টান বাড়লে ওষুধ খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই।

৪. বসন্তে নানা বর্ণ ও গন্ধের ফুল ফোটে। এই ফুলের একটা বড় অংশের পরাগায়ণ ঘটে বাতাসের মাধ্যমে। তাই বসন্তে পুষ্পরেণু অ্যালার্জি সাধারণ ঘটনা। গাছ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও রোগীরা আক্রান্ত হতে পারেন। শুষ্ক হাওয়ায় ধুলোবালি থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ চুলকানো ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ সমস্যা সমাধানে মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। নাক দিয়ে বেশি জল পড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন

৫. এ সময় অনেকের জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হয়। জলবসন্ত খুব ছোঁয়াচে, বিশেষ করে যার কোনো দিন এ রোগ হয়নি, তার ক্ষেত্রে। সরাসরি সংস্পর্শ এবং রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জলবসন্ত ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার করা কাপড় গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। বেশি চুলকালে একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় অথবা রুমাল নিয়ে তা হলুদ জলে ডুবিয়ে রেখে ভালোভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে সেই কাপড়টি আলতো হাতে চুলকানির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওপরের এসব নিয়ম মানলে বসন্তেও আপনি থাকবেন পুরোপুরি ফিট।