বেলঘড়িয়া ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি দর্শন

রাকা নাথ,

কলকাতা


আমার বড় মাসির মেয়ে মিঠুদি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৪তারিখ বিকেলে আমি মিঠু দির সাথে ওনার বাড়িতে গেলাম। আমার ছোট মাসি বরাহনগরে অনন্যা সিনেমার কাছে নেমে গেলো। আমি ও মিঠু দি বেলঘড়িয়ায় মিঠু দির বাড়ি গেলাম।

যাইহোক সেই দিন রাতে আমি প্রথম কুকুরের ডাকের মতো একটি ডাক শুনলাম। আমি ভেবছিলাম যে, ঐ ডাকটা হয়তো কুকুরেরই। পরে জামাইবাবু বললেন যে, " ঝুম, এই ডাকটি কিসের? বলতো? " তখন আমি বললাম, "কুকুরের বোধহয়। " তখন জামাইবাবু বললেন, "না, ওটা শিয়ালের ডাক। এই যে আমাদের বাড়ির পিছনে বিশাল বড়ো জঙ্গল আছে। ওরা ওই জঙ্গল থেকে ডাকছে। "

যাইহোক আমি আরও দুই থেকে তিন বার শিয়ালের ডাক শুনতে পেয়েছি। ঐ দিন রাতেই প্ল্যান করলাম যে, প্রথমে আমরা আদ্যামায়ের কাছে যাবো। পরের দিন আমরা জোড়াসাঁকো ভ্রমণ করবো। জগন্নাথ মন্দির দেখবো। এবং শনিবারে ভোগ প্রসাদ খাবো।

সেই মতো বুধবার দিন বিকেলের দিকে আমরা আদ্যামায়ের কাছে গেলাম। ঠিক হলো পরের দিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যাবো। বৃহস্পতিবার দিন আমি জামাইবাবু ও মিঠু দি তিন জন মিলে দুপুর বেলা খেয়ে দেয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি গেলাম। ওখানে আমাদের জাতীয় কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা প্রথমে ওনার আঁতুর ঘরে গেলাম। আতুর ঘরের দরজা অনেক দিন আগেকার বলে দরজাটি ভেঙে গেছে। আমরা দেখলাম আঁতুর ঘরের ভেতরে একটি প্রদীপ ও একটি কলসি আর গ্লাস রাখা আছে।

রবিঠাকুর যেই পোশাক পরতেন সেই পোশাক যত্ন সহকারে রাখা ছিল। সেই সময়কার ড্রেসিং টেবিল, আয়না এবং ওনার ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র "এস্রাজ" ও দেখলাম। ওনার লেখা কবিতা, গান , আঁকা ছবি ও দেখলাম। ওনার মা বাবার ছবিও দেখলাম। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে "নাইট" উপাধি দিলে তিনি এই উপাধি ত্যাগ করেন। এই ছবিটি ও আমি দেখেছি। ঐ দিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে বেড়িয়ে এ. সি বাসে করে সোজা বলঘোড়িয়ার রথতলা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নামলাম। ওখান থেকে তিন জনে মিলে জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর ঢুকলাম। মিঠু দি শনিবারের ভোগ প্রসাদের কুপন কাটতে গেলো। জামাইবাবু শিব ঠাকুরের কাছে গিয়ে ঠাকুর প্রণাম করছেন। আর আমি ভিডিও কলে বাবা মাকে ঠাকুর দর্শন করালাম। শনিবার দিন দুপুরের দিকে গিয়ে মিঠু দি ভোগ প্রসাদটি এনে দিলো। ভোগ প্রসাদ খুব সুস্বাদু ছিল। রোববার দিন দুপুরের দিকে ছোট মাসির সাথে মাসির বাড়ি চলে গেলাম। তারপরে শ্যাম মন্দির ও দক্ষিণেশ্বর মন্দির দেখে তিন থেকে চার দিন মাসির বাড়ি থেকে মার সাথে বাড়ি ফিরে এলাম।