অসীম ছন্দ
বিকাশ রঞ্জন মণ্ডল,
কলকাতা
আলোর আসন আছে পাতা
অস্ত রবির কোলে
তিমির বিদার ঊষা সেথায়
আলোক হয়ে জ্বলে।
হারিয়ে গেছে যে গানখানি
অতল সভা মাঝে
সে গান ফেরে সুরটি লয়ে
সকল সত্য কাজে।
শূণ্যময় যত ভগ্ন আবাস
অজানা ভয় জাগায়
বজ্র বাণীর অভয়ে হৃদয়
তারি পানে ধায়।
মৃত্যু সিন্ধু ভাসায় যে প্রাণ
কালো মেঘের দেশে
কালের তালে আসে সে যে
জীবন ভালোবেসে।
বিষাদ বিধুর আনাগোনায়
যে বীণা হয় নীরব
গোপন ছন্দে পরমানন্দে
তাতে ফেরে বৈভব।
ব্যাকুল তরঙ্গ করে বিভঙ্গ
মর্মতলের স্বপন
পথ দেখানোর মরমিয়া সুর
ছন্দে ফেরায় মন।
ঝড়ের পবন করে গর্জন
প্রেমের আসন টেনে
উন্মত্ততার বিভীষিকা হারে
অসীমের ছন্দ মেনে।
ছন্দ পতন নয়তো মোটেও
ছন্দ সাথেই ভাসা
মৃত্যু সিন্ধু পরশ পেয়েও
ছন্দ বাঁচায় আশা।
শ্যামল ধরায় পূজার বেলায়
স্নিগ্ধ প্রাণের খেলা
অসীম ছন্দে ভুবন মাতে
সে পথেতেই চলা।
আমার প্রথম আগুন
বিকাশ রঞ্জন মণ্ডল,
কলকাতা
বাংলা বর্ণমালার
হে আমার প্রথম আগুন
তোমাতে সেঁকেছি আমার
হিম-শীতল নিরক্ষর জীবন-কোষ
পেয়েছি বর্ণ পরিচয়
আমার প্রথম প্রেম।
সমাজ মনের অবিদ্যা যত
তোমার সাগর-বিদ্যা পরশে
হয়েছে সুসংস্কৃত।
সমাজ বক্ষের নৃশংস অপ্রেমে
অনন্য তুমি দিয়েছিলে
বাঙালী মায়ের
অনিঃশেষ প্রেমের হৃদয় সুধা।
ভারতীয় ঋষির
প্রজ্ঞা তুমি বিবেক তুমি
পাশ্চাত্যের চিরায়ত উদ্যম
তোমার মহিমায় প্রবাহিত
নির্মল ঝর্ণার পাহাড়ী বেগে।
হে অজেয় পৌরুষ অক্ষয় মনুষ্যত্ব
ঊষর কণ্টকাকীর্ণ হৃদয় ভূমে
ফুটিয়েছিলে তুমি মানবতার ফুল
তাই তুমি
স্বতন্ত্র, একক এবং সবল।
অকুতোভয় ও আপসহীনতায়
সম্পৃক্ত হে জাগ্রত মধুসূদন
দেশাচারের ঘৃণ্য দাসবৃত্তি ভুলে
তুমি আর্তের পাশে ছিলে
অম্লান কিরণে হেম কান্তি
দয়ার সাগর হয়ে।
অন্ধকার শাস্ত্র-দাসত্বের
করাল গ্রাসের বাঁধন কেটে
তুমি গড়েছিলে বিদ্যাসাগরী শাস্ত্র
এক নব করুণা বিধান।
আধুনিক মাটির পৃথিবীতে
অনুসরণযোগ্য মানবতার
ঈশ্বর তুমি।
খাল বিল নদী দেখে বড় হওয়া
আমি তোমাতে সাগর দেখেছি।
তাই আজ আর আমি
স্বর্গ চাই না মোক্ষ চাই না
চাই বিধাতার ইচ্ছায় গড়া
আমার প্রথম আগুন
করুণাসিন্ধু ঈশ্বরচন্দ্র তোমাকে।
শান্তি কিছু ছড়িয়ে দিও
বিকাশ রঞ্জন মণ্ডল,
কলকাতা
ক্রোধ ঈর্ষা লালসা মিথ্যা
হিংসা স্বার্থ দ্বন্দ্ব
চিতা অনলে পুড়িয়ে তাদের
নষ্ট করো ছন্দ।
মানবতার পূজারী বাউল
বাজাও শুদ্ধ সুর
তোমার রঙে রঙ মিলিয়ে
পীড়ন করো দূর।
পূজার ডালি দাও ভরিয়ে
আপন করা ফুলে
রক্তের দাগ দাও মুছিয়ে
অস্ত্র ঝংকার ভুলে।
আশার স্বপন বাঁচিয়ে রাখো
পুত কর্ম ফলে
মালিন্য সব শোধন করো
বেদন নয়ন জলে।
জ্ঞানের পথে সত্য থাকুক
ধর্ম পথে মর্ম
সেবার পথে হৃদয় জাগুক
নির্মল হোক কর্ম।
নিভিয়ে দিও মত্ত আগুন
ভালোবাসার জলে
শান্তি কিছু ছড়িয়ে দিও
প্রেমের খেলার তালে।