ইরেজার
অনিন্দিতা গুড়িয়া,
নিউ-দিল্লি
ছোট্টু মিতুল এ বছর তিন বছর পূর্ণ করল। স্কুলে যাবে সে এ বছর থেকে ।
অবশ্য বাড়িতেই সে শিখে ফেলেছে অ-আ-ক-খ-A- B -1 -2 ইত্যাদি। পড়তে এবং
লিখতে আর তার সঙ্গে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে ছড়াও বলতে পারে প্রায় গোটা
১০-১২ টা। মিতুল থাকে গ্রামে তার দাদু ঠাকুমার কাছে। প্রায় দু'বছর ধরে
তার বাবা মা আলাদা আলাদা থাকে। বাবা মাকে সে ফটোতেই চেনে, দারুন হাসিখুশি
চটপটে আর দুরন্ত মিতুল । যা একবার দেখে শোনে তাই খুব চটপট করে শিখে ফেলে
। দাদু ফর্ম ফিলাপ করে স্কুলে জমা করে দিয়ে এসে বলল- দিদি এই নে তোর
খাতা পেন্সিল, এখন থেকে শ্লেট পেন্সিল ছেড়ে খাতায় লেখা প্র্যাকটিস কর।
কাল সকাল হলেই তোকে এডমিশন টেস্ট দিতে যেতে হবে, আর ওখানে খাতা পেন্সিলে
লিখতে হবে ।
খুব করে প্র্যাকটিস করল সে ঠাম্মার কাছে বসে। পরদিন সকালে নতুন জামা জুতো
পরে দাদু ঠাকুমার হাত ধরেছে এডমিশন টেস্ট দিতে গেল মিতুল। এর আগে এই
স্কুলে ও বেশ কয়েকবার এসেছে দাদুর সাথে। দাদু এই স্কুলের ম্যানেজমেন্ট
কমিটির একজন গণমানুষ সদস্য। কিন্তু এদিন স্কুলে এসে সে বেশ মজা পেল।
দেখলেও তার মত ছোট্ট অনেক ছেলে মেয়ে এসেছে সেখানে, কেউ কেউ আবার
কান্নাকাটিও করছে। এইসব দেখে শুনে সে বেশ মজা পেল। গেট খোলার আগে সামনের
বই খাতার দোকান থেকে দাদু ছোট্ট একটা পেন্সিল বাক্স কিনে দিলেন। গেট
খুলতেই দাদু ঠাম্মাকে বায় বলেই সে ভেতরে ঢুকে গেল একটুও ভয় না পেয়ে।
দিদিমণি খাতা দিয়ে বললেন -"যে যা জানো সব লিখে ফেলো"।
মিতুল তার পেন্সিল বাক্স খুলে দেখল তার ভিতরে তার চেনা জিনিস একটাই আছে
যেটাকে পেন্সিল বলে। ও সেই পেন্সিল দিয়ে ঠাকুমার শেখানো সব কিছুই লিখল
সুন্দর করে। দিদিমণি বারবার দেখে গেলেন। মিতুলের লেখা শেষ, তখনো বেশ সময়
আছে, সে বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখলো আর বাচ্চারা কে কি করছে। তারপর নিজের
পেন্সিল বাক্স খুলে বোঝার চেষ্টা করলো পেন্সিলের সাথে বাকি ছোট্ট চারকোনা
জিনিস দুটো কি কি? একবার ভাবল দিদিমণিকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু দেখল
দিদিমণি কিছু করছেন। ঠাম্মাই তাকে শিখিয়েছে- কেউ যখন কোন কাজ করেন তখন
তাকে বিরক্ত না করে নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করতে হয়। তাই বড় হয়ে
যাওয়ার গর্বে সে দিদিমণিকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পেল। সে নিজেই নেড়েচেড়ে
দেখতে লাগলো। একটাতে একটা ফুটোও আছে সে সেই ফুটোতে পেন্সিল টা ভরে দিল
এদিক ওদিক করে একটু চেপে ঘরাতে দেখল বাহ কেমন সুন্দর পাপড়ির মতন
বেরোচ্ছে উপরের সরু ফাঁকটা থেকে। এবার সে সাদা মত নরম জিনিসটা নিয়ে
ব্যস্ত হয়ে পড়ল। প্রথমে জিভে লাগিয়ে চেটে দেখলো, নাহ্ মোটেও মিষ্টি
নয় । এবার সে দাঁত দিয়ে কেটে নিলো খানিকটা । বাহ্ বেশ নরম, দাঁত দিয়ে
কাটতে বেশ ভালো লাগলো। ঠিক তখনই তার লক্ষ্য গেল অন্য একটি বাচ্চার দিকে,
তার হাতেও ঠিক ওই রকম একটি সাদা ছোট্ট জিনিস। কিন্তু সে ওইটাকে না
চিবিয়ে তার খাতায় ঘোষছে কেন!
খাতা জমা দেবার ঘন্টা পরে গেছে, দিদিমণি সকলের খাতা জমা নিচ্ছেন। এবার
মিতুল তাড়াতাড়ি তার সাদামত জিনিসটা নিজের খাতায় ঘষলো এবং দিদিমণি তার
নাম ধরে ডাকতেই উঠে গিয়ে সে খাতা জমা দিল।
দিদিমণি চমকে গেলেন তার খাতা দেখে । লেখা কোথায়? তিনি মিতুল কে কিছু না
বলে হেড দিদিমণিকে সব জানালেন। দিদিমণি ওরাল টেস্ট নেওয়ার পর দাদুকে
ডেকে দেখালেন মিতুলের খাতা। দাদু তো অবাক। দাদু মিতুল কে কাছে ডেকে নিয়ে
গেলেন হেড দিদিমনির ঘরে, জিজ্ঞেস করলেন লেখা কোথায় ? মিতুল জানালো সব
লিখেছিল সে তারপর অন্য বাচ্চাকে ওই জিনিসটা ব্যবহার করতে দেখে ভাবল দাদু
যখন ওই জিনিসটা সঙ্গে দিয়েছে তাহলে সেটাকেও বা বুঝি ব্যবহার করতে হবে।
যদিও মিতুলের খাতা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল সেখানে সবকিছু লেখা ছিল । আর
গার্ডে থাকা দিদিমণি ও জানালেন তার লেখার কথা। মিতুলের ওরাল টেস্ট খুবই
ভালো হয়েছিল আর সেই জন্যই সে যাত্রায় সেই স্কুলেও ভর্তি হয় সে।