গঙ্গাসাগর ভ্রমণ

গৌরি নাথ,

কলকাতা

বেড়াতে যেতে আমরা খুব ভালোবাসি। লোকের কাছে শুনি, 'সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার। ' কিন্তু নানারকম বাধার কারণে আমাদের গঙ্গাসাগর যাওয়া হয়ে উঠেনি।একবার হঠাৎ ঠিক করলাম যে গঙ্গাসাগর যাবো। আমরা তিনজন অর্থাৎ আমি, আমার মেয়ে, মেয়ের বাবা এবং আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গাসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

সেটা ছিল ২৮শে মার্চ ২০২৩ সাল। ভোর ছটা দশ মিনিটের নামখানা লোকালে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে উঠলাম। আমরা ১০.৪৫ মিনিটে কাকদ্বীপ স্টেশনে পৌছালাম, সেখান থেকে অটো করে লট নম্বর ৮এ এসে টিকিট কেটে ভেসেলে উঠলাম, সব যাত্রী উঠার পরে ভেসেল ছেড়ে দিল। গঙ্গার বুক দিয়ে আমাদের ভেসেল যখন চলতে শুরু করলো তখন এক অপূর্ব দৃশ্য আমরা দেখলাম।

প্রচুর পরিমাণে শঙ্খ চিল পাখি ভেসেলটির চারিদিকে ঘিরে তাদের আওয়াজ ও অপূর্ব দৃশ্যে আমার মন আনন্দিত হয়ে উঠলো। মনে হলো আমরা যেন কোনো পাখির রাজ্যে চলে এসেছি।

কিছু কিছু যাত্রী পাখিদের জন্য খাবার কিনে ছুড়ে ছুড়ে দিচ্ছিল। আর পাখিগুলো তাদের আওয়াজ করে সেই খাবার খাচ্ছিল। সেই দৃশ্য ভোলার মতো নয়।

তারপর যথাসময়ে আমাদের ভেসেল তীরে এসে পৌছাবার পরে আমরা একটি গাড়ি নিয়ে কোপিল কুটির আশ্রমে পৌঁছে গেলাম। আমরা ফোনে ওদের সাথে কথা বলে নিয়ছিলাম। তাই আমাদের ঘর পেতে অসুবিধা হয় নি। আমরা ওখানে দুরাত্রিরের জন্য ঘর বুক করলাম।কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে অল্প একটু বিশ্রাম নিয়ে কোপিল মুনির মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি টোটো নিয়ে সেখানে পৌঁছে গেলাম।টোটো থেকে নেমে আমরা সুন্দর বাঁধানো রাস্তা দিয়ে এসে সাগরেরে তীরে এসে পৌঁছালাম। আমরা যখন ওখানে পৌঁছালাম তখন ভাটা চলছিল। তাই সাগরের জল অনেক দূরে সরে গিয়েছিল।

তীরের সামনে প্রচুর কাদা হয়েছিল,তাই আমরা জল না থাকলে ও বেশি দূরে এগোতে পারিনি।রাস্তার দুধারে অনেক গাছ সুন্দর করে বাঁধিয়ে রাখার ফলে রাস্তা দিয়ে হাটার সময় কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে আবার আমরা সন্ধ্যার সময় কোপিল মুনির আশ্রমে আরতি দেখার জন্য এসে উপস্থিত হলাম। মন্দিরে ৫০ জনের মতো দর্শনার্থী ছিল। কাঁসর,ঘন্টা,প্রদীপ দিয়ে আরতির শেষে শঙ্খধ্বনীর মাধ্যমে আরতি শেষ হলো।সেখানে শঙ্খবাবা নামে একজন পুরোহিত ছিলেন। ওনার শঙ্খ বাজানোর আওয়াজে মন্দির চত্বর যেন মুখরিত হয়ে উঠেছিল। উনি আমার মেয়েকে আশির্বাদ করলেন।

মন্দিরে মা গঙ্গা ,ভরত রাজা,কোপিল মুনির মূর্তি ছিলো।আরতি শেষে আমাদের মাথায় আশির্বাদের জল ছেটানো হলোও প্রসাদ দেওয়া হলো। তারপর আমরা আশ্রমে ফিরে এলাম। পরের দিনে আমরা সকাল বেলায় স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে মন্দিরে পুজা দিলাম। ওখানে পুজা দিয়ে আমাদের খুব ভালো লাগলো ।কারণ,ঐ সময় মন্দিরে বিশেষ দর্শনার্থী ছিল না।তাই ঠেলাঠেলি করতে হয়নি।তারপর আমরা সন্ধ্যের সময় ঐখানের ভারত সেবাশ্রম মন্দিরের আরতি দেখলাম। খুবই ভালো লাগলো। পরের দিন সকাল বেলা আবার একটু মন্দির থেকে ঘুরে এসে স্নান খাওয়া সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।