কবিতা
ঝর্ণা সরদার,
নিউ-দিল্লি
কবিতা আমার প্রশান্ত দিন সুনীল আকাশ,
কবিতা আমার দিন যাপনের মলয় বাতাস।
কবিতা শরীর সম্প্রীতি আর চেতনা আনুক,
কবিতা শরীরে জ্ঞানের মশাল জ্বলুক জ্বলুক।
কবিতা বিদ্রোহী হোক নির্যাতনের মন্ত্র পড়ুক,
কবিতা মুখোশধারী রাজতন্ত্রের মুখোশ ছিঁড়ুক।
কবিতা হোক গোধূলী বেলা সদ্য গোলাপ,
কবিতা আমার দিন যাপনের তান ও আলাপ।
পঁচাত্তরের যুবতী
ঝর্ণা সরদার,
নিউ-দিল্লি
আমি পঁচাত্তরের যুবতী বলছি
এই দেখো আমার হাত পায়ের চামড়া
একটু ও শিথিল হয়নি
সিঁড়ি ভাঙতে আমার হাঁটুতে একদম যন্ত্রনা করেনা
আমি যেকোন ষোড়শীর সাথে
পাল্লা দিয়ে হাঁটতে পারি
কেন জানো?জানো না তো?বলছি শোনো
স্বামী সগ্গে যায় তখন আমি ত্রিশ
ছেলে তখন বারো ক্লাস মেয়ে তখন বিয়ের যোগ্য
মানুষটার ইচ্ছে ছিল
ছেলে মাস্টারহবে
এর বাড়ি ওর বাড়ি কয়লা ভেঙে বাসন মেজে
জল তুলে মেয়ের বিয়ে দিলাম
ছেলে এখন হাইস্কুলের হেড মাস্টার
বিয়ে করেছে একটা ছেলে ও আছে
এই দেখো আমি পঁচাত্তরের যুবতী বলছি
আমার শরীরে এখনো প্রচন্ড শক্তি
এখনো চার ঘরে বাসন মাজি জল তুলি
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে
সব কাজ করি
শীত বর্ষা আমাকে জব্দ করতে পারেনি এখনো
আমি পঁচাত্তরের যুবতী বলছি
আমি এখনো নিজের পেটের ভাত
নিজেই জোগাড় করি
অসুখ হলে হাসপাতালে ভর্তি হই
আবার সুস্থ হয়ে
নেমে পড়ী জীবন যুদ্ধে
আমি পঁচাত্তরের যুবতী বলছি
আমি পঁচাত্তরের যুবতী বলছি ।