খেজুরের রস

অঞ্জনা কুন্ডু দত্ত ,

কলকাতা

শিউলি এসেছে,তাড়াতাড়ি ওঠ। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই প্রায় অন্ধকার এর মধ্যেই বাবার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। মনে হলো কে যেনো গাছ বাইছে।সালটা ইংরাজী ১৯৭৫। তখন আমি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। আমাদের বাড়িটা স্টেশন থেকে অনেকটা দূরে।বেশ একটা গ্রাম্য পরিবেশ। দুটো খেজুর গাছ ছিল। নভেম্বর এর শেষে দুটো মাটির হাঁড়ি কিনে আনা হয়েছিল। আগের দিন শিউলি এসে গাছ দুটো কেটে নিল গুঁজে হাঁড়ি বেঁধে দিয়েছিল। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব মজার লেগেছিল। ঘুম চোখে দেখলাম মা জলের মতো গ্লাসে ঢেলে সবাই কে খেতে দিচ্ছে। আমি অনেক টা খেয়ে নিলাম।কি সুস্বাদু, সেই রস।বেলার দিকে মা উনানে শুকনো নারকেল পাতা পুরিয়ে ফুটিয়ে গুঁড় বানালো। অপূর্ব সেই ঝোলাগুড় সন্ধ্যায় রুটি দিয়ে খেলাম। এখন ও মুখে লেগে আছে। কিন্তু বর্তমানে খেজুর গাছ ও দেখা যায় না।আর এখন খেজুর গাছ কাটার লোক ও নেই। সুদূর গ্রামে গেলে হয়তো বা খেজুর গাছের দেখা মিলবে।