কুঁড়ের কৌটো শ্রম
প্রত্যুষ কুমার(ঝোড়ো হাওয়া),
হাওড়া
নমস্কার, আমি হলাম তোমাদের সকলের প্রিয় শ্রমজয় অর্থাৎ RJ শ্রম।
গঙ্গোপাধ্যায় বাড়ির একমাত্র কুঁড়ের কৌটো হলাম আমি। আমার লাইফে
কোনোকিছুই চিরস্থায়ী নয়। দাদুর ইচ্ছে ছিল আমার নাতিবাবু ব্যবসায়ী হবে।
অথচ ব্যবসার কানাকড়িও সামলাতে পারিনি। বাবান অর্থাৎ বাবামশাই বলেছিল যা
ইচ্ছে তাই কর। তবে পারলে সরকারী চাকরীর চেষ্টা করিস। কথামতো, ইন্টারভিউ
দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েও পড়লাম। কিন্তু ঐ যে মাথায় পোকা নড়ে
ওঠে। তাই ইন্টারভিউয়ে না গিয়ে বন্ধুদের সাথে জমিয়ে ক্রিকেট খেলে বাড়ি
ফিরলাম। আর তারপর.. বাকিটা? বাকিটা ইতিহাস।
দাভাই বলেছিল তুই কেমিষ্ট্রিতে পিএইচডি কর। বলি, আমি আমার লাইফের
কেমিষ্ট্রিই ঠিকমতো সামলাতে পারিনা। সেখানে কিনা আমি কেমিষ্ট্রিতে
পিএইচডি করব! স্বপ্ন দেখা ভালো, তবে সেটা যদি পূরণ হয়! তবেই তার মধ্যেই
মজা আছে। হ্যাঁ, মানুষ নানা মাধ্যমেই মজা পেয়ে থাকেন। সেটা ভালোও হতে
পারে আবার খারাপও হতে পারে। মানেটা আপনাদের বোঝার ওপর। তবে জীবনে বেঁচে
থাকার সেরা মন্ত্র হল আমার কাছে তিনটে। আর সেগুলো কী জানেন? আসুন তাহলে
বলেই দি।
আরে বলব, বলব। এত ব্যস্ততা কীসের? এতো আর বিয়ের লগ্ন নয়। যে সঠিক
সময়েই সব করতে হবে। জানেন আমার মা কী বলেন?
মা বলেন,"স্লো বাট স্টেডি"। কিন্তু আমার জীবনে সবটাই স্লো, স্টেডি কিছুই
হয়না। একমাত্র আঁখিনয়না ছাড়া। জানেন মা চেয়েছিল ছেলে গান করুক।
হ্যাঁ, দু-একজনের কাছে তালিমও নিয়েছিলাম। যথেষ্ট যত্ন করে শেখাতেন
ওনারা। উফ! ভাবতেই অবাক লাগে একসময় আমি নাকি বেহাগ, মালকোষ, গৌরাঞ্জনী,
টোড়ি, ভৈরবী, হংসধ্বনি এসব বাজাতাম আর গাইতাম?! স্টাফ নোটে পিয়ানো
বাজাতাম। ডোরেমি, লাতিডো, ফাসো, ব্লুজ আরও কত কি সব গীটারে শিখেছিলাম!
যদিও সবকিছুই এখন অতীত। কিন্তু জানেন, আমার আঁখিনয়না সম্পূর্ণ বিপরীত
একটা মানুষ। ও যে কাজ করবে বলে ঠিক করে। সেটা ও করেই ছাড়ে। যদিও নয়না
কর্পোরেট অফিসে চাকরী করে। তাও ও নিজের গুন ধরে রেখেছে। যেমন ভালো রাঁধে
ঠিক তেমনই নাচের ভঙ্গিমা। অসমযুক্ত, সম্যুক্ত, নৃত হস্ত সব কিছুতেই
পারদর্শী নয়না। সবকিছু করার জেদ রয়েছে ওর মধ্যে। আর আমি? নতুন করে
নিজেকে সার্টিফিকেট আর নিশ্চয়ই দরকার নেই! ভগবানই জানেন আমার নাম কেন
শ্রমজয় রাখা রয়েছে?
যাক্ গিয়ে, সেসব ভেবে আর কাজ নেই। আজ কাজ থেকে একটু ছুটি পেয়েছি। বরং
মন্ত্র জপ করে মূল কাজ শুরু করে দি। আবার তো সেই আগামীকাল সকাল সকাল
বেরিয়ে ঐ চেয়ারে বসে বকবক আর বকবক। ধুর, এই চাকরীটাও ছেড়ে দেবো ভাবছি!
ওহ, একটা কথাই বলতেই ভুলে গিয়েছি। বন্ধু অরিত্র আর নিখিলের সহযোগে একটা
সিনেমার ডিরেকশন দিয়েছিলাম। সিনেমাটা প্রশংসাও পেয়েছিল। তারপর কাজের
অফারও এসেছিল। নিজেই নাকচ করে দিয়েছি। কিছুদিন আগে, সলীল সমারোহের
অনুষ্ঠান ছিল। সকলের অনুরোধে একটা গানও গাইলাম। আহা! লোকে প্রশংসায়
ভরিয়ে দিল।
এই কটা বাজে? সেকি! এতক্ষণ যে নিজের খেয়ালে বলেই গেলাম অথচ আমি টেরও
পেলাম না? অনেক এনার্জি লস হয়ে গেল। না আবার সঞ্চয় করতে হবে। আমি
মানুষটাই না এরকমই, সোজাসুজি কথা বলতে ভালোবাসি। হয়তো কারুর মনে হবে আমি
নিমপাতা। আবার কেউ ভাববে তেঁতুলপাতা বা আমপাতা। কিন্তু বাস্তবে আমি কী?
আমি নিজেই অজানা আমি। তবে মা বলে ধীরাজ রাখতে। দেখবি একদিন তুই ই পারবি।
না, না ওসব ভ্লগিং আমার দ্বারা পোষায় না। বরং মন্ত্র জপ করে চলে যাই সেই
কাজে।
জানেন না কী কাজ? বলছি, বলছি। আমার কাছে বেঁচে থাকার সেরা মন্ত্র হলো
কেডিজি। বুঝলেন না তো? মানে, খাই, দাই, ঘুমাই। ওকে চললাম। কোথায় আবার?
ঘুমের দেশে..
[লেখনীর চরিত্রটি সম্পূর্ণভাবেই কাল্পনিক। বাস্তবের সহিত যদি মিলে যায়
তা নিছকই অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়। পারলে অলসতা দূর করে কর্ম মাধ্যমে
বাঁচুন। লেখনীর কোনো অংশ কপি করা বা নকল করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও
অনুমতিস্বাপেক্ষ!!]]
~ শুভম(মধুরেণ সমাপয়েৎ) ~