কুমারী উমা
চিত্তরঞ্জন মন্ডল,
কলকাতা
দুবছর আগে জন্মাল যে মেয়েটা ফুটপাতে
ভোগ লালসার শিকার সে আজ রাতে
রক্তে ভেসে যায় ঘামগন্ধ ছেঁড়া জামা
যন্ত্রনায় কুঁকড়ে যায় অপাপবিদ্ধ ছোট্ট শরীর
মরনের সাথে যুদ্ধ করে জন্মানোর অপরাধে।
মেয়ে উমার আগমনে অঢেল সমারোহ
কুমারী পূজা করে পাপস্খলন করি
তারপর ফুটপাতের উমাকে
জ্বলন্ত চিতায় তুলি।
ঢাক ঢোল তাসা বিসর্জনের কত বাজনা
কারা নাকি বলছে সদা আনন্দে থাকো
যা কিছু দেখছো, শুনছো,
সবই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র
একেবারে সাজানো ঘটনা।
মান যায় যাক, টাকা যায় যাক,
সব যাক আমার
পারিষদবর্গ নিরাপদে দুধে ভাতে থাক।
ধরনীর বিশাল আকাশ, নির্মল বাতাস
দুগ্ধপোষ্য শিশুর কাছে অপাংতেয় আজ
তবু চুপ করে থাকে বিদগ্ধ সমাজ।
ভিড় ট্রাম বাসে বাদুড় ঝোলা ঝুলছি
আই পি এল নিয়ে করছি চিল চিৎকার
বস্তিতে বস্তিতে আগুন -
লাগিয়ে দিচ্ছে যেন কারা
এ সব নিয়ে ভাবার সময় কোথায়
ভাবনা শুধু কবে বাড়ছে ডি, এ-
কবে দেবে এরিয়ার।
সেদিন ট্রেনে
চিত্তরঞ্জন মন্ডল,
কলকাতা
সেদিন ট্রেনে যাচ্ছিলুম শান্তিনিকেতনে
উঠল হকার চলার মাঝখানে
বাতের ব্যথার অব্যর্থ ওষুধ
বিক্রি করছে খুবই অল্প দামে ।
কিনছে না একজনও
গভীর দুঃখে বলছে সে
পরিবর্তনের কি আলো
বাত ব্যথা সব হাওয়া হয়ে গেল,
সংসারটা আমার এবার
চলবে কিসে।
রসিক যাত্রী এক ঝেড়ে উঠল কেশে
বলল, ভাই, নিত্যযাত্রী আমরা
নিতান্ত গরীব গুরবো লোক
সকাল সন্ধ্যে রোজ খেটে খেতে হয়
মানায় না আমাদের ঘোড়া রোেগ।
বেতো রুগী পেতে যদি চাও
সোজা কলকাতা চলে যাও
খোঁজ কর সুশীল সমাজ যত
মোমবাতি নিয়ে মিছিলে হাঁটত তারা কত
মেট্রো চ্যানেলে দিন রাত জড়ো হত
এখন তারা আর নেই রাস্তায়।
বাতের কোন অসুখে পা দুটো নড়ে না।
সেইখানে গিয়ে দেখ তোমার ওষুধে
রোগ সারে কি সারে না।
সারাটা কামরা নিস্তব্ধ উন্মুখ
এ কোথাকার আহাম্মক
একি উপায় বাতলে দিলে
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে
নির্দোষ কৌতুকে সবাই মিলে।
বেচারা হকার লেখাপড়া কদ্দুর আর
কিছুই না বুঝে অবুঝের মত
অসহায় মুখ করে
পরের স্টেশনে নেমে গেল
ধড়পড় করে।