লাঞ্ছনায় নারী
কুমার আশীষ রায়,
নিউ-দিল্লি
লাঞ্ছনা আর বলাৎকারে দেশটা গেল ভরে
আজ সমাজের সভ্যতাটা প্রচন্ড নড়বড়ে
ঘরে-বাইরে মাতৃজাতির সরব অপমান
শিক্ষিত আর অশিক্ষিতের একই অবস্থান ।
মুখেই বড়ো কথা --- মনে নিকষ অন্ধকার
সমাজ কোথায় মানলো আজো নারীর অধিকার
ভোগ্যপণ্য রূপে নারী জন্ম দেবার যন্ত্র
পুরুষ শাসিত বিশ্বে তাই এমন সমাজতন্ত্র ।
নারীর বলো, কোথায় অতীত এবং ভবিষ্যৎ
অধিকারও নেই যে তাদের দেবার মতামত
স্বাধীনতা দিলেই নারী হবে স্বেচ্ছাচারী
সুযোগ পেয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়াবাড়ি ।
প্রকাশ করতে নারীর বাধা নিজের পছন্দ
গৃহবন্দী দশাতে তার সুখ ও আনন্দ
স্বাধীনতায় যদি নারী স্বাবলম্বী হয়
পুরুষকে আর মানবে কি সে সমাজের এই ভয় ।
কেউ শোনে না লাঞ্ছনাতে নারীর আর্তনাদ
বরং বিপদ ডেকে এনে রাখে পেতে ফাঁদ
নারী সেতো কন্যা, জায়া জননী সবাই জানে
তবু সমাজ তারই ওপর নানা আঘাত হানে ।
নিয়মের ঘেরাটোপে
কুমার আশীষ রায়,
নিউ-দিল্লি
সূর্য ওঠে কার আদেশে, অস্ত দিনের শেষে
এমন নিয়ম প্রকৃতিকেই শুধু ভালবেসে
ধ্বনিত ওই রামধনুটা সাতটি শব্দরঙে
মনের ভেতর জাগে প্রেম যেমন আপন ঢঙে ।
স্বপ্ন দেখা সৈকতের বালুকা বেলায়
মন মায়া বিহারিনী মগ্ন প্রেমিকায়
স্থূল চোখের ভাষাতে, সূক্ষ্ম অনুভবে
বিশুদ্ধভাব জাগলে মনে অক্ষয় সে রবে ।
হারজিত আর বোঝাবুঝি কালের স্মৃতিঘরে
শান্ত শীতল কখনো যে রুদ্র রূপও ধরে
শপথ নিয়ে চলতে থাকা জীবন নদীর নামে
যা-ই ঘটুক ভবিষ্যতে, পথ চলা কি থামে ?
চোখের ভাষায় তপ্ত আশায় অন্তরে উপবন
হাহাকারে ফাগুন কালে সন্তাপিত মন
চারিদিকে সুবাসিত --- কিসের সংকেত
আত্মা আলোকিত তবু দেহে অনিকেত।