মলিনাঞ্জলী
৺ মলিন মুখার্জি,
কলকাতা
ক/১/১ --> 'মা অভয়া দেখো আমায় --'
মা অভয়া দেখো আমায়
মা-যে ছেড়ে গেছে চলে।
শেষ না হতে পূজা আমার --
শেষ না হতে জীবন খেলা --
নিয়তি যায় পায়ে দনে --
ভবের ঘরে ভাবের খেলায়
কারো মেলে, কেউবা হারায়
(আমি) হেরে গিয়ে সেই খেলাতে --
যাই ডুবে মা -- অতন তলে।
দুখের মাঝে জনম নিলেম --
দুঃখ সহি অকাতরে।
অভয়া মার অভয় পেলে --
ভয় করিকি আমি তারে
এই ভুবনে একা-আমি --
তাইতো মা তোর চরণ চুমি --
সব হারায়ে দিবা নিশি --
ডাকি তোরে মা নয়ন জলে ।।
___________
ক/১২/২ --> মা মনটা আমার কাঁদে
মা মনটা আমার কাঁদে
মিছে মায়ার তরে মাগো দেখাস কেন চাঁদে
হলেন আমি সকল হারা
তাইতো আজি পাগলপারা
আমার দিবানিশি ধূপের মতন
অনল জলে হৃদে
তোমার চরণ ভালোবাসি
ওমা চাইনা ভবের হাসি রাশি
রহেনা মন একলা ঘরে
তোমায় ডাকি পারের তরে
মাগো পার করে দে জীবন সাগর
জড়াস না আর ফাঁদে
___________
ক/৪০০/৩ --> আমার মা যে পাগল -- বাবা পাগল --
আমার মা যে পাগল -- বাবা পাগল --
আমিও যে তাই পাগল হই
ধরার মাঝে সবাই পাগল
আকাশ বাতাস পাগল তাই
মশানেতে গাঁজা খেয়ে
শ্মশানেতে থাকে শুয়ে
ভোলা বাবার সারা অঙ্গে
মাখা যে তার শুধু ছাই
কালী মায়ের পায়ের তলে
হই যে পাগল সকল ভুলে,
মা তোর কৃপা পাবো বলে
বুক ভাসে মোর ভক্তি জলে।
রঙ্গিনি মার হাতে অসি
অপর হাতে অভয় শশী
শ্যামা মায়ের আশীষ বাণী
আমি যে। গো পেতে চাই।।
___________
ক/৪০১/৪ --> মন কাঁদে, কাঁদে আমার
মন কাঁদে, কাঁদে আমার সকল হিয়া
আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে
মা মা বলে সবাই কাঁদে
মন আমার কাঁদে ওগো
সুর যে তাদের নিয়া
পশু ডাকে মা মা বলে
ডাকে সকল পাখি
আমি শুধু ভাবি যে মা
কি নামেতে ডাকি
শ্যামা নাম না মুখে আনিলে
তার চরণে কি ঠাঁই মিলে
তাই কালি নামের গাঁথা মালা
ঝরিছে নয়ন দিয়া।
___________
গ/৪/৫ --> আঁখি দুটি জলে ভরিয়া
আঁখি দুটি জলে ভরিয়া
তুলসী তলায় প্রতি সন্ধ্যাবেলায়
দীপ জ্বালো তারে স্মরিয়া
দখিনার সমীরণে
কোকিলের গান শুনে
এমনই সে গোধূলিতে
বেঁধেছিলে হিয়াতে হিয়া
হে মাধবী রাতে বকুলের সাথে
ভ্রমরার কানাকানি
শরম ভুলিয়া সোহাগে বাঁধিয়া
দিয়েছিলে মালা খানি
নিয়তির ইশারাতে
হৃদি জ্বেলে বেদনাতে
স্মৃতিখানি পূজা করো
সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়া।
___________
গ/৫/৬ --> ওগো শিল্পী --
ওগো শিল্পী --
আপনারে তুমি ভুলিয়া
অমরার প্রেমে দিয়াছো মরম ভরিয়া
অমর তোমার দান
(তুমি) চাহো নাকো প্রতিদান
তব হিয়া দলে -- পলে পলে
জ্বেলে আলো মালা যাও গাঁথিয়া।
শিল্পী মনের বেদনা
মন মরু মাঝে কেঁদে ফেরে শুধু
কেহতে তাহারে বোঝেনা
নিখিল ও বেদনা রাতে
বিরহী পাপিয়া সাথে
কার বেদনায় আঁখি ভরে যায়
দীপ জ্বালো কারে স্মরিয়া
___________
গ/১০/৭ --> দীঘল নয়ন কোলে
দীঘল নয়ন কোলে
ঘুমের ফাঁকে স্বপন এঁকে
ব্যথার বাদল দোলে
স্বপ্নে দেখে রাজার কুমার
পরিয়ে কন্ঠে মণির হার
সোহাগ জানায় -- দুলিয়ে খোঁপায়
(সে যে) সাজায় তারে ফুলে
কন্যা ভাবে মেঘের ভেলায়
যাবে বঁধুর ঘরে
উছলে ওঠে যৌবন তার
হিয়ায় কাঁপন ধরে
মিথ্যে হল স্বপন তাহার
ফিরে এলো বিরহ আবার
ঘরের কোণে আপন মনে
কন্যা গাঁথে মালা আঁখির জলে
___________
গ/১১/৮ --> আজ তুমি মোর পাশে নাই
আজ তুমি মোর পাশে নাই
অমরার প্রেমে মরম ভরিয়া
তোমার সুরভী পাই
যে পথে গিয়াছো তুমি
তারি ধূলা শুধু চুমি
ঝরা মালা বুকে লয়ে
স্মৃতিরে জাগাতে চাই
নিশীথে নিরজনে
বলে যাওয়া বাণী লয়ে
কথামালা রচি মনে মনে
দেখা দিয়ে ক্ষণ তরে
বেঁধে ঘর ভেঙে তারে
একা রেখে গেলে হায়
জলে ভরে আঁখি তাই
___________
ঘ/৭/৯ --> হারিয়ে গেছে চিকন কালা --
হারিয়ে গেছে চিকন কালা
ভেঙে গেছে মোর আশার আলা
আজ যত দূরে চাই
হাহাকার শুধু পাই
মরমেতে তাই সহিয়ে দহন জ্বালা
অবুঝ হৃদয় জানে
কাছে তে পাবে না তারে
তবু নিশিদিন
কেঁদে খুঁজে বারে বারে
কাছেতে পাবে না যারে।
বাসরের সুরে সুরে
বিরহ ব্যথায় ভরে
স্মৃতি অশ্রু মালা
___________
ঘ/১৪/১০ --> আজ কেন সই বাঁশি বাজে না
আজ কেন সই বাঁশি বাজে না
যমুনা কেন আজ উজান বহে না
চিকন কালা দিলো যে জালা,
জ্বালায়ে হৃদে প্রেমেরই আলা
ভাষায় অকুলে গেল সে কোন কূলে
দিয়ে গেল শুধু বিরহ যাতনা
গাহে না কোকিল
গাহে না শুক-শারি
ফুলো দল ঝরে বুঝি
বেদনাতে তারই
যমুনা সনে গোপিনী গণে
কাঁদিছে ফুলে ব্যাকুল মনে
মথুরা নগরে দেখি প্রতি ঘরে
নিঠুর কালার দেখা তো মেলে না
___________
ঘ/১৫০/১১ --> কৃষ্ণ প্রেমে এত ব্যথা --
কৃষ্ণ প্রেমে এত ব্যথা
জানলে কি সই প্রেম করিতাম কৃষ্ণ সনে
আমি প্রেমিক ছাড়া একা একা
ঘুরিতাম সই বনে বনে
কৃষ্ণ কালা দেয় যে জ্বালা,
তার জ্বালায় জ্বালায় জ্বলে যাই
তারই প্রেম পাগলে পাগলিনি
ঘরে তো আর মন রে নাই
তাই পথে পথে বেড়াই ঘুরে
কৃষ্ণেরই সেই বৃন্দাবনে
কৃষ্ণ চোরা বড় চোরা
করলো চুরি আমার মন
বাঁশির সুরে ডাকে দূরে
নিশীথে সেই কৃষ্ণ ধন
মোহনবাসীর গোপন সুরে
আমি পরান ধরতে যাই
তাই কূল চাই না ঘর চাই না
শুধু কৃষ্ণ সখা চাই
আমার কৃষ্ণ বিনা প্রাণ বাঁচে না
প্রেমের আগুন জ্বলে মরে।
___________
ঘ/১৫১/১২ --> কৃষ্ণ প্রেমে পাগলিনী গরবিনী রাই
কৃষ্ণ প্রেমে পাগলিনী গরবিনী রাই
ও সে শ্যাম সোহাগে সোহাগিনী
শ্যামের পাশে তাই
শ্যামের সেই বাঁশির সুরে
আসে রাই রইলো দূরে
তার বুকে দোলে ফুলের মালা
কোন লাজ নাই
নীলাম্বরী পড়ে রাধা
জল আনিতে যায়
ও সে জলের কৃষ্ণ দেখে
মনের কথা কয়।
কূল ছেড়ে রাই পেল কালা
আমার বুকে দহন জ্বালা
আমি প্রেমের আশায় কেঁদে ফিরি
আমার। কৃষ্ণ কোথা পাই।
___________
ঘ/৩৭২/১৩ --> মিনতি করি গৌরাঙ্গ শ্রী হরি
মিনতি করি গৌরাঙ্গ শ্রী হরি
একবার দেখা দাও না
তোমারি বিহনে ঝরিল নয়নে
মরমের যত বেদনা
সেম সোহাগিনী রাধিকার মত
অনুরাগ রাখি আঁখিতে
বিনোদিনী সম বিরহিনি আমি,
সখা নাম লিখি বুকেতে
বিজনও বিপিনে বাসর সাজায়ে
বেঁধেছি ঝুলন দোলনা
গেঁথেছি যে মালা কদম্বেরই ফুলে
একবার সখা পরো এসে গলে
যোগিনীর বেশে গোকুলের পথে
কেঁদে ফিরি তোমায় খুঁজিয়া
পুঁজিবারে প্রভু ও রাঙা চরণ
প্রেমে রাখি হিয়া ভরিয়া
জীবন পথের কান্ডারি তুমি
তরী হয়ে পার করো না।।
___________
ঙ/৯/১৪ --> কোন বনে তার পায়ের নুপুর --
কোন বনে তার পায়ের নুপুর --
ঝুমুর ঝুমুর বাজে
কোন গগনে মধুর সুরে
বাঁশের বাঁশি বাজে
কোন যাদুকর বেনুর সুরে
ডাকছে কাছে অনেক দূরে
কার ভাবনায় মন কাঁদে হায়
আগুন জ্বলে বুকের মাঝে
কোন গীতালি গীতাঞ্জলি
(আমার) স্বপ্নে শোনায় মধুর বুলি
কোন পাপিয়া বিরহ ব্যথায়
ডাকছে পিয়া পাবার আশায়
কার ইশারায় মন ভেসে যায়
আঁধার ভরা ব্যথার সাঁঝে।
___________
ঙ/২১/১৫ --> তমাল বনে শ্রী রাধা সনে
তমাল বনে শ্রী রাধা সনে
যুগল মিলনে গিরিধারী
প্রেমেরই ফাগে সেজে অনুরাগে
মুরলি বাজায় কৃষ্ণ মুরারি
নীল যমুনা বহিছে ছন্দে
সুখ-সারি গাহে প্রেমানন্দে
নাচে ময়ূরী ময়ূর সাথে
দিশেহারা তাই যত গোপনারী
এসো অন্তর মন্দিরে মম
তব প্রেম বিলাসে জীবন সঁপিনু
ওগো মোর মোহন পিতম
এসো মাধব অনাথের সখা
চন্দন ও ভালে শিরে শিখি পাখা
নবারুণ রঙে রাঙ্গায়ে মোরে
দরশন দাও হৃদয় বিহারী
___________
ঙ/৩৩/১৬ --> দয়াল হরি
দয়াল হরি
আজকে আমি হার মেনেছি
ভবের পরে ভাবের খেলায়
নয়ন জলে কত ভেসেছি
ধরার হরি
সংসারে আজ সং সেজেছি
শুধু অভিশাপে ভরলো জীবন
কতই যেন পাপ করেছি
মালেক হরি
ভাঙ্গা গড়া তোমার খেলা
নিরাশ জনে আশা দিয়ে
পার করে দাও বেয়ে ভেলা
পারের হরি
ভবের জালা ভুলবো বলেই
তোমায় ডাকা সার ভেবেছি
___________
ঙ/৫৭/১৭ --> সাঁঝের বেলায় আর যাব না
সাঁঝের বেলায় আর যাব না
যমুনার কূলে
সেথা রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
বসি কদম্বেরই মূলে
বাঁশি করে মন চুরি
ঘরে আমি রইতে নারি
বিষে অঙ্গ জ্বর জ্বর
আর নয়ন ভরে জলে
নামে আঁধার মাঠের পারে
মন ভাবে মোর মোরে
বাঁশির সুরে।
মন চোরা কৃষ্ণ কালা
দেয় খালি সে বড় জ্বালা
তার বিহনে একলা ঘরে
হিয়ায় অনল জলে
___________
চ/৩/১৮ --> ভালোবেসে ছিলে মোরে --
ভালোবেসে ছিলে মোরে --
ভুলিনি তো বঁধু --
ভুলিবো না কভু --
বেঁধেছিলে প্রেম ডোরে
মলয়ার ইশারাতে
স্মৃতি জাগে মধুরাতে
তুমি কাছে নাই -- নাই বলে যেন --
আরো ভালো লাগে তোমারে।
বিরহ সাগর কুলে তাই --
স্বপনে মিলনের সেতু বেঁধে যাই
দোলে গলে তব মালা,
মরমের যত জ্বালা --
সবই ভুলে যাই -- পাই যেন পরশ ;
তুমি যেন রয়েছ ঘিরে।
___________
চ/১৬/১৯ --> ভালোবাসি সেই ভালো --
ভালোবাসি সেই ভালো --
আর কিছু চাইনা,
দূরে থাকো ক্ষতি নাই --
স্মৃতিটুকু নিও না।
সুখী যদি তুমি হও --
অভিশাপ দিয়ে যাও --
আমি হই অপরাধী,
তুমি প্রভু হয়ো না।
হিয়াতে জড়ায়ে হিয়া --
রেখেছি যতনে,
তোমারে ভালবাসি --
ভুলি আমি কেমনে ?
অবসর সারা বেলা --
মন নিয়ে করি খেলা --
অবহেলা যদি পাই --
ব্যথা তবু পাবো না।
___________