মোহময়ী মধ্যপ্রদেশ (বান্ধবগড়-ব্যাঘ্র দর্শন) তৃতীয় পর্ব

মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী,

বালি হাওড়া


পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য লাইব্রেরি বিভাগে দেখুন...

পরদিন ভোরে 17 seater Canter গাড়িতে চড়ে রিসর্ট থেকে ফরেস্ট অফিসে গেলাম। সেখানে দেখি Gypsy গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে অগুন্তি। প্রত্যেকটিতে প্রায় লোকজন উঠে বসে গেছেন। বেশকিছু গাড়ি ইতিমধ্যেই ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। শীত বেশ জব্বর রয়েছে। সকলের মাথায় হ্যাট এই ভোরেই। জঙ্গলের পোশাক খুব রঙচঙে হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। এটা যারা জঙ্গল সাফারি করেন তাঁরা জানেন। গাড়ি ছাড়ার আগে ফর্ম ফিলাপ করে প্রত্যেকের আধার কার্ডের কপি জমা দিয়ে verification করে, গাড়ি ও গাইডের জন্য নির্দিষ্ট চার্জ জমা করলে তবে গাড়ি allot করা হয়। MP Tourism আগের দিন সন্ধ্যায় আমাদের জন্য এসব official কাজ সম্পন্ন করে রেখেছিলেন।

সহযাত্রী হিসেবে পেলাম মুম্বই প্রবাসী বাঙালি দম্পতি ও একজন Wildlife photographer কে। এটা সত্যি একটা সৌভাগ্য যে এরকম একটা সাফারিতে যদি পাশে একজন Wildlife photographer থাকেন এবং তিনি তাঁর ঝুলি থেকে একটি একটি করে অভিজ্ঞতার কিঞ্চিৎ নমুনা মাঝেমাঝে বলতে থাকেন, জঙ্গলের মধ্যে তখন অন্যরকম একটা অনুভূতি হয়। বয়েসে নবীন কিন্তু জঙ্গলের অভিজ্ঞতার ঝুলি তাঁর পরিপূর্ণ। আর ছিলেন গাইড এবং ড্রাইভার। যাঁদের হাতে পর্যটকদের মন ও প্রাণের দায়িত্ব। গাইড যদি জঙ্গলের পথে শুধু শুকনো বর্ণনা দিয়ে যায়, মন তাতে সায় দেয় না। তাই গাইড হতে হয় রসিক শিরোমণি। আমাদের সৌভাগ্য যে গাইড এবং ড্রাইভার দুটিই অত্যন্ত রসিক এবং সুবক্তা।

এমনিতেই কোর এরিয়ায় ঢুকে পড়ে একটা গা ছমছমে অনুভূতির সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তেজনা থাকে। অসমতল রাস্তার কোথাও উঁচু কোথাও নীচু। কোথাও পথের ওপর দিয়ে হালকা জলের ধারা বয়ে যাচ্ছে। কোথাও আচমকা কোন হরিণের ডাক বা বাঁদরের ডাক শুনে গাইড আমাদের চুপ করে বসে থাকতে বলছেন । জঙ্গলের রাজা নাকি কাছাকাছিই আছেন। তবে মন মর্জি হলে তিনি দর্শন দেবেন, নচেৎ নয়। গাইডের কথা শুনে আমরা একবুক উত্তেজনা নিয়ে চুপ করে বসে থাকি, তিনি দর্শন দেন না। আবার গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আরও গভীরে ঢোকা। কখনো পাহাড়ি বাঁকে সূর্যোদয়ের রক্তিম আভা সারা জঙ্গলে নরম স্পর্শ বুলিয়ে দেয়। মোবাইলে ছবি তুলতে ভুলে গিয়ে হাঁ করে সেই দৃশ্য শুধু মন ক্যামেরায় ধরে রাখি। দূরে পাহাড়চূড়ায় বহু পুরাতন এক মন্দির। সূর্যের আলো তারও গায়ে। দেখতে দেখতে আবার এমন বাঁকে ঢুকে পড়ি যেখানে আলো প্রবেশ করতে পারে না।

এটি মূলতঃ শালগাছের জঙ্গল। শতকরা সত্তর ভাগ শাল ও শতকরা দশভাগ বাঁশ, বাকি অন্যান্য গাছ রয়েছে। গ্রামবাসীরা যে একসময় এই অঞ্চলে থাকত তার নিশান রয়েছে আম, জারুল, পিপুল আর অর্জুন গাছে। আর যেখানে চাষজমি ছিল এককালে, সেখানে এখন লম্বা ঘাসের জঙ্গল, যাতে রাজামশাই আরাম করে লুকিয়ে থাকতে পারেন। গাইড যেতে যেতে বারবার এই গ্রামবাসীদের কথা, গল্প, তাদের অসামান্য ত্যাগের কথা শোনাচ্ছেন, আর আমরা আরও ঋণী হচ্ছি সেই অদেখা মানুষদের কাছে। যেখানে মানুষ নির্বিচারে জঙ্গল কেটে সাফ করে সেখানে আবাসন গড়ে তুলছে, সেই যুগে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ নিজের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন শুধুমাত্র জঙ্গল বাঁচিয়ে রাখতে। দুরন্ত গতিতে এগোতে এগোতে চোখে পড়ে অজস্র চিতল, একটি বারাশিংগা আর তিনটি সম্বর হরিণ। এছাড়াও আরও দুরকম প্রজাতির হরিণ আছে তালা জোনে। গাছে গাছে নানান পাখির ডাক। পাখি ভালবাসি, কিন্তু নাম জানি না অধিকাংশের। তাতে কি? চোখ আছে, প্রাণ ভরে দেখছি। জানি, গাইড যা বলছেন তার অধিকাংশই মনে রাখতে পারব না। কিন্তু তাতে এই সময়টা মিথ্যে হয়ে যাবে না কোনোদিন।

বান্ধবগড়ের তালা জোনে সাফারি করার একমাত্র কারণ এখানে নাকি কেউ বাঘ না দেখে কেউ ফিরে যায় না। কিন্তু আমাদের জিপসি জঙ্গলে ঢোকার পর একঘন্টা কেটে যাওয়ার পরেও আমরা বাঘের দেখা পেলাম না। উঁচু নীচু রাস্তা পেরোতে পেরোতে হঠাৎ করে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়াল গাড়ি। সামনে একটা টেবিল টপ মাউন্টেন। যার পাশ দিয়ে দিনের প্রথম সূর্যালোক রাঙিয়ে দিচ্ছে চারিদিক। ভারতের অন্যতম দীর্ঘ টেবিল টপ মাউন্টেন। তার উপরে মন্দির। পাহাড়টির নাম বাদিয়াঘাট। তালা বা টালা জোন ছাড়া ও আরও দুটি কোর এরিয়া রয়েছে। মাগধি ও খিতৌলি জোন। তালা বা টালার আয়তন ১০৫ বর্গ কিমি। খিতৌলি ১০০বর্গকিমির কিছু কম আর মাগধি ৫০০ বর্গ কিমির কিছু বেশি। কিন্তু বাঘের ঘনত্ব মাগধিতে কম। তালাতে সবথেকে বেশি। মোট কোর জোনের আয়তন ৭১৬ বর্গ কিমি। তিনটি বাফার জোনের নাম ধামোখার, জোহিলা বা কালোয়া এবং পাঁচপেরি। যার মোট আয়তন ৮২০ বর্গ কিলোমিটার।

ঘুরতে ঘুরতে চোখ পড়ে জঙ্গল ভর্তি ঝরাপাতার দিকে। গাড়ি তার ওপর দিয়ে মড়মড় শব্দে পেরিয়ে যায়। আগে আশেপাশের লোকজন এইসব শালপাতা তুলে নিয়ে যেত জীবিকার তাগিদে। পড়ে থাকা মরা গাছ কেটে নিয়ে যেত। কিন্তু এর ফলে ধীরে ধীরে ভল্লুক, শজারু আর হরিণের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। পরিবেশবিদরা এসে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে গ্রামবাসীদের বোঝান যে, এইসব পড়ে থাকা গাছের কাঠ ও পাতা জঙ্গলের রক্ষার জন্য কতটা প্রয়োজনীয়। পড়ে থাকা পাতা গর্ভবতী হরিণের সুখাদ্য। এতে ক্যালসিয়াম থাকে। আবার শজারু এই ঝরাপাতা খেতে ভালবাসে। পড়ে থাকা গাছ উইপোকার খাদ্য। আবার উইপোকা খায় ভালুক। খাদ্যশৃঙ্খল এবং ecosystem ভেঙে পড়ে জঙ্গলের জিনিস জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গেলে। তাই জঙ্গলের সবকিছু জঙ্গলের ভিতরেই পড়ে থাকবে। গ্রামবাসীরা বুঝতে পেরে জঙ্গল থেকে একটি পাতাও আর তুলে নিয়ে যায় না। এর ফলে ভালুক ও হরিণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

গাড়ি চলতে চলতে এসে দাঁড়াল এক জলাশয়ের সামনে। যার অন্য পারে মাগধি জোন। জলাশয়ের ধারে একটা ন্যাড়া পাহাড়। আর পাহাড়ের নীচে অনেক শকুন, যারা প্রায় লুপ্ত হতে বসেছে। বান্ধবগড় আবার তাদের রক্ষা করার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। শকুন দেখেই চোখ গেল অদ্ভুত এক গাছের দিকে। যার নাম strangler tree । যেকোন শক্তপোক্ত একটি বৃক্ষের গায়ে লতানে গাছ পাকিয়ে পাকিয়ে উঠে ওই বৃক্ষের রস টেনে নিয়ে বিশালাকার ফাঁসের মত বেড়ে ওঠে আর ঐ বৃক্ষের মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে। অদ্ভুতাকার এই গাছ বেশ গা ছমছমে অনুভূতির সৃষ্টি করে। পাহাড়ের গায়ে আরও একটি বৃক্ষের দেখা মেলে এখানে। যার গোটা গা একেবারে ধবধবে সাদা। অন্য সব গাছের থেকে আলাদা। বেশ লাগে দেখতে। কিন্তু নামটি শুনলেই জঙ্গলের মধ্যে কেমন ভয় ভয় করবে। ঐ গাছের নাম ghost tree অর্থাৎ ভূত গাছ ।কেন এরকম নাম গাইডও বলতে পারলেন না। তবে মনে হয় ওই সাদা রঙের জন্যেই অমন নাম। জঙ্গলের এত বৈচিত্র্য আছে বলেই তো এর মাধুর্যই অন্যরকম।

মাঝে একটি প্রশস্ত জায়গায় সমস্ত জিপসি এসে থেমেছে। সাফারির অর্ধেক পর্ব অতিক্রান্ত। আরও বেশকিছু সময় হাতে রয়েছে। অতএব, নো চিন্তা। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এক বাঙালিনীকে দর্শন দেবে না এটা হতে পারে না ভেবেই গাড়ি থেকে নেমে একটি টেবিল দখল করলাম। পাশেই ধূমায়িত চায়ের দোকান। একটি দোকান নয়, পরপর বেশ কয়েকটি দোকানে চা এবং টা দুইই মিলবে। আমাদের সঙ্গে হোটেলের দেওয়া ব্রেকফাস্ট রয়েছে, আলুর পরোটা। খুলতে গিয়ে দেখি তখনও গরম। নরম গরম আলুর পরোটা আর চা খেতে গিয়ে দেখি, আমি যেখানেই যাই, সেখানেই আমার গা ঘেঁষে আসে চারটি কুকুর আর বেড়াল। এখানে দুটি কুকুর। বেশ নধর চেহারা। তার মানে এই টিফিনের জায়গায় তাদের কেউ বিমুখ করে না। খুব ভদ্র সারমেয়। পাশে চুপ করে অপেক্ষায় থাকে। আলুর পরোটা খুব মনোযোগ দিয়ে খেল দুজনে। তারপর অন্য পর্যটকের কাছে যাবার আগে আরও একবার এল। মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে খুশি মনে বিদায় নিল। আমরাও আবার গাড়িতে সওয়ার হলাম। অনেকে দেখলাম এখান থেকে বাঘের ছবি দেওয়া টুপি, জামা কিনেছেন স্মৃতির টুকরো হিসেবে।

এবার গাড়ি পাক দিয়ে ওপরে উঠছে দ্রুত। এবড়ো খেবড়ো রাস্তা মুহূর্তে পেরিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে। শুধু গাইড আচার্য আমাদের বারবার সাবধান করছে যাতে আমরা গাড়ি আঁকড়ে ধরে থাকি। বিশেষ করে আমাকে, কারণ আমি বাঘ দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। ওদের ধারণা আমি বাঘ দেখার জন্য লাফিয়ে নেমেও পড়তে পারি। আচার্য এবং সোনুর মুখ থেকে এরকম বহু হাসির গল্প শুনতে শুনতে এগিয়ে চলা। কেউ নাকি বাঘ দেখামাত্র ঠাস্ করে অজ্ঞান হয়ে গাড়ি থেকে বাইরে পড়ে গেছেন। ওরা তখন দ্রুত নেমে তাকে বস্তার মতো তুলে গাড়িতে রেখেছে। বস্তা এই অর্থে যে মহিলা ভয়ংকর মোটা ছিলেন। না আমি বডি শেমিং টেমিং কিছু করিনি, ওই ওদের মুখের কথা তুলে দিলাম। আর একজন ছেলে নাকি জোর করে নেমে পড়েছিল বাঘের ছবি তুলতে, তাকেও জোর করে তুলে আনা হয়। আসলে জঙ্গল এই ড্রাইভার ও গাইডদের কাছে লক্ষ্মী। এই জঙ্গল ওদের পরিবারের মুখে দিনের শেষে অন্ন তুলে দেয়। তাই এই জঙ্গলে ঘোরাবার সময় ওরা যতোটা সম্ভব সুন্দর করে, মজার ছলে গল্প বলতে থাকে। এক ফাঁকে উঠে এলাম পাহাড় চূড়ায়। আস্তাবল ও কাছারি ঘর দেখে আমাদের সামনে এলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মূর্তি। একটা পাথরে খোদিত মূর্তি। বিষ্ণু মূর্তি অনন্ত শয্যায়। অপরূপ মূর্তি ।কিন্তু ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্রহ্মার মূর্তি তো এখন আর নেই। পাশ দিয়ে বর্ষাতে ঝর্ণা নামে বলেই মনে হল। এক পরম শান্তির স্থান।

বাঘেল রাজ বিক্রমাদিত্যের কোন পূর্বপুরুষের সৃষ্টি এই কাছারি বাড়ি, আস্তাবল ও ত্রিমূর্তি। চতুর্দশ বা পঞ্চদশ শতাব্দীতে এগুলি নির্মিত হয়েছিল সম্ভবত।

পাহাড় থেকে নেমে দূর থেকে চোখে পড়ল ঐরাবতের মত একটি হস্তি হেলতে দুলতে আসছে। পিঠে মাহুত। আচার্যের মুখে শুনলাম এর নাম সুন্দরগজ। এখানকার রাজা। এর উচ্চতা প্রায় দশ ফুট। পাশ দিয়ে যখন আমাদের পাত্তা না দিয়ে চলে গেল, মনে হল ওই জন্যেই প্রবাদটির জন্ম... ।এমনিতে সুন্দরগজ খুব শান্ত। কিন্তু একবার কি কারণে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়ে ভুলবশতঃ নিজের মাহুতকে পিষে মেরে ফেলে। তারপর ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় খাওয়া দাওয়া ত্যাগ ক'রে প্রায় মরতে বসেছিল। অনেক চেষ্টায় ওকে আবার সুস্থ করে তোলা হয়েছে। যাইহোক, সামনে থেকে এত উঁচু একটা হাতি দেখে মন ভরে গেল। আরও বেশ কয়েকটি হাতি দেখলাম। তাদের নাম লক্ষ্মণ ও গনেশ। গনেশ সদ্য আগত। সে কেবলই পালাতে চায়। তাকে পাহাড়া দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে।

ভূত (ghost) গাছ, ফাঁসি (strangler) গাছ, নানান পাখি, হাতি, বানর, হরিণ, ময়ূরের পাল সব দেখা হলো, কিন্তু যার জন্যে আসা তাকে কিছুতেই দেখতে পাই না। গাড়ি জঙ্গলের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পুরো খুঁজেও তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। নাম শুনে শুনে ততক্ষণে মুখস্থ করে ফেলেছি। ডটি, নটি, স্পটি, বজরং, চক্রধর। এই মূহুর্তে এদের রাজত্ব এখানে। নাম শুনলেই বোঝা যাচ্ছে কে পুরুষ আর কে মহিলা। খিতৌলির ভীম বলে একটি বাঘের নাম ও শুনলাম। সীতা হচ্ছে এই জঙ্গলের আদি মাতা। সীতাকে এখানকার মানুষ মা বলে পুজো করে। সীতা ও চার্জারের বংশধররা এখন এই ছটি জোনের আকর্ষণ। গাইডের বক্তব্য বান্ধবগড়ে একশোর বেশি বাঘ আছে। কিন্তু তথ্য বলছে ষাট থেকে সত্তরের মত বাঘ আছে।

হঠাৎ মোড় ঘুরতে লাইন দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে দেখে বুঝলাম আশা আছে। সামনের একটি গাড়িতে মহিলা গাইড রয়েছেন। তিনি নাকি ডটিকে দেখেছেন লম্বা ঘাসবনের মধ্যে। কেউ বললেন ল্যাজ দেখতে পেয়েছেন, কেউ পাশ ফিরে শুতে দেখেছেন। আমরা কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। হতাশ লাগছে একটু। আচার্যের কথায় ড্রাইভার সোনু অন্যদিকে গাড়ি নিয়ে গেল। সেখানেও অনেকক্ষণ অপেক্ষায় রইলাম। কিচ্ছু নেই। আচমকা আচার্যের ইশারায় সোনু আবার আগের স্পটে স্পিডে নিয়ে চলল। ঘাসবনের ভিতর থেকে দৃঢ় পদে ডটি বেরোচ্ছেন। তারপর ধীরে সুস্থে অতগুলো গাড়িকে কেয়ার না করে রাস্তা পেরিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ রইলাম। পাশের জলধারা তিরতির শব্দ করে বয়ে চলেছে। ফিরব এবার পরম প্রশান্তি নিয়ে।


ক্রমশ..............