মা

অনিল সামন্ত,

দক্ষিন রামনগর, দঃ২৪ পরগনা।

মা মানেই রূপকথার গল্প
মা মানেই নির্মাণ, নির্বিকল্প।
মা মানেই স্নেহের আঁচল।
মা মানেই কাছে পাওয়া
একমাত্র সম্বল।

মা ডাকেই শান্ত ঝড়-বৃষ্টির রাত,
মা মানেই মাথায় বুলানো হাত।
মা বুলিতে জুড়ায় প্রাণ,
মা মানেই আমার মান।

মা মানেই আপাদমস্তক মা,
টিপ-আলতা আঁকা।
মা মানেই মাথা ঠান্ডা রাখা।
মা মানেই মমতা, অভয়, ভরসা
-এই তিন:
মা মানেই আশা পূরণের জিয়ন কাঠি
-আচ্ছে দিন।

মা মানেই শুশ্রুষার হাত;
মা মানেই উঠান নিকানো স্নিগ্ধ প্রভাত।
মা মানেই সকাল-সন্ধ্যা
শঙ্খ বাজিয়ে শুরু
মা মানেই শান্তির বারি সিঞ্চন,
আমার প্রথম গুরু।

মা মানেই কল্যাণময়ী।
আমার সকল বায়না
মা মানেই পরশ পাথর
আমার মনের আয়না।

মা মানেই ঠাকুরের কাছে শুভকামনা,
মা মানেই যাঁর পরিবেশনে শান্ত ও তৃপ্ত রসনা।
মা মানেই শুভ সন্ধ্যায়
তুলসীতলায় মঙ্গলদীপ জ্বালি।
মা মানেই সহনশীলতা, সর্বংসহা
চরণে নয়ন রেখে শ্রদ্ধায় অঞ্জলি।

মা মানেই জিততে জিততে, হেরে গেলেও
পাশে তিনি একমাত্র মা,
মা মানেই আঁচলের খুঁটে মুখ ঢেকে
অবুঝ বোবা কান্না।
মা মানেই স্নেহ পারাবার অপার করুণা,
মা উচ্ছ্বাসহীন বাঁধভাঙা সান্ত্বনা।

মা মানেই বুক নিঙড়ানো আশীবার্দ,
মা মানেই পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
মা মানেই আবার জয়ের স্বাদ।

মা মানেই মান অভিমান,
স্নেহের সংবিধান।
মা মানেই নাড়ীর অমোঘ টান,
দেবতার দান।

মা মানেই রোগ নিরাময়
নেইকো মৃত্যু, নেইকো জরা,
মা মানেই অগাধ জলদি
শীতল করুণাধারা।

মা মানেই তিলে তিলে বেড়ে ওঠা
হাজার মাণিক্য খনি।
মা মানেই ভুবন ভরানো হাসির বরজ
আমার জীবন, আমার শপথ, আমার বাণী।