পানাকম
বাসবদত্তা গুড়িয়া,
নতুন দিল্লি
আমি তখন বেশ ছোট, আমরা দিল্লির আর কে পুরামে থাকতাম। তখন বাবার হাত ধরে
ছুটির দিনে প্রায়ই যেতাম দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির গুলিতে। যেমন মালাই
মন্দির, আইয়াপ্পা মন্দির বা ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে। সেখানেই ভগবানের
প্রসাদ রূপে প্রথম খেয়েছিলাম এই পানাকম। পানাকাম হলো দক্ষিণ ভারতে
উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পানীয়। প্রায় ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই
পানীয়টি পরিচিত ছিল বলে মনে করা হয় এবং এটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে ঠান্ডা
রাখতে ও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে ব্যবহৃত হয়।
উপকরণ:
সবুজ এলাচ বা ছোট এলাচ ৮টি।
কালো গোলমরিচ ১/৪ চা চামচ
গুড় ১ কাপ (ঝুরো করে কাটা)
জল ৬ কাপ
লবঙ্গ একটি
খাবার কর্পূর এক চিমটি (ঐচ্ছিক)
১টি বড় লেবুর রস বা ২ টেবিল চামচ লেবুর রস
আদা গুঁড়ো ১ চা চামচ
কয়েকটি তুলসী পাতা
পদ্ধতি:
এলাচ, লবঙ্গ এবং কালো গোলমরিচ গুঁড়ো করুন।
একটি বড় পাত্রে গুড়, গুঁড়ো করা এলাচ, লবঙ্গ ও কালো গোলমরিচ এবং জল এক
সাথে যোগ করুন। ভালভাবে নাড়ুন এবং ১০-১৫ মিনিটের জন্য ঢেকে রেখে দিন।
গুড় গলে যাবে এবং এলাচ এবং গোলমরিচের স্বাদও জলের সাথে ভালো ভাবে মিশে
যাবে।
এবার জল ছেঁকে নিন এবং লেবুর রস, আদা গুঁড়ো, তুলসী পাতা যোগ করুন আর এক
চিমটি খাবার কর্পূর যোগ করুন, এতে প্রচুর পরিমাণে ডিটক্সিফাইং এবং হজম
বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এবার এই মিশ্রণ টি ভাল করে নাড়ুন।
ঠান্ডা, সতেজ এবং স্বর্গীয় পানাকম প্রস্তুত!
দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলিতে ঐতিহ্যগত ভাবে রাম নবমীতে ভগবান শ্রীরামকে
নিবেদন করার পর এটি প্রসাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। তবে শুধু যে রামনবমী
তে এটি প্রসাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু নয়, প্রায় সারা বছরই
পানাকম প্রসাদ হিসেবে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলিতে বিবেচিত হয়।
গরমের সময় আপনিও এটি তৈরি করে ঠান্ডা করে পরিবেশন করতে পারেন। এই
পানীয়টি তার মিষ্টি, মসলাদার স্বাদ এবং স্বাস্থ্যকর গুণের জন্য পরিচিত।
বিঃদ্রঃ: পূজার কর্পূর বা ভীমসেনী কর্পূর ব্যবহার করবেন না।
যদি পাওয়া যায় তবে কেবল খাবার কর্পূর ব্যবহার করুন অথবা সম্পূর্ণরূপে
এড়িয়ে চলুন।