বন্দে ভারত ট্রেনে পুরী
রাকা নাথ,
কলকাতা
এই বছর আমাদের পরিকল্পনা ছিল পুরী যাওয়ার। বাবা অনলাইনে যাওয়া আসার
টিকিট কাটলেন। আমি এবং আমার বাবা মা সবাই মিলে ২০২৪সালের ২০মার্চ তারিখে
ভোর ৪টের সময় ট্যাক্সি করে হাওড়া স্টেশনে গেলাম। ওখান থেকে ব্যাটারি
চালিত গাড়িতে করে ট্রেনের দরজার সামনে পৌছোই। আমাদের ট্রেনটির নাম ছিল
বন্দে ভারত। আমাদের ট্রেন সকাল ৬.১০নাগাদ ছেড়েছিল। আমাদের বগি নম্বর
ছিল"C 1" আমরা যখন ট্রেনে উঠি তখন ট্রেনের দরজা অটোমেটিক ভাবে খুলে গেল।
আমরা ঢুকলাম। অনেকটা মেট্রো রেলের মতো। ট্রেনের ভিতরের দিকে আরেকটি দরজা
আছে, সেই দরজাটি আবার বোতাম সিস্টেম। আমাদের সিটে বসতেই আমাদের এবং সকল
যাত্রীদের 'সুস্বাগত' জানালো। ঐ ট্রেনের ভিতরে সামনের দিকে দেওয়ালে একটি
মনিটর লাগানো ছিল। সেই মনিটরের পর্দায় লেখা দেখতে পাচ্ছিলাম। ট্রেন তার
গতি ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে। এমনকি সকল স্টেশনের নাম আমাদের সকল যাত্রীদের
দেখাচ্ছিলো, এবং শোনাচ্ছিল। ট্রেনের বাথরুম ছিল খুব পরিষ্কার। এবার
ট্রেনের খাবার পরিবেশন কারী স্টাফদের কথায় আসি। তাদের ব্যবহার ও
কথাবার্তা খুবই ভালো। আমাদের প্রথমেই দিল চায়ের উপকরণ। যেমন মিল্ক
পাউডার, চিনি, টি ব্যাগ আর গরম জল। আমাদের টিফিনে দিলো, দুপিস পাউরুটি,
জ্যাম এবং মাখন, ডিমের ওমলেট ও আলুভাজা। আমাদের ট্রেনটি সাড়ে বারোটার
মধ্যে পুরীতে পৌছানোর কথা, কিন্তু আমাদের ট্রেনটি পুরীতে গিয়ে থামলো
১.১৫তে। ট্রেন থেকে নেমে অটো করে পুরী শহরে ঢুকলাম, আমাদের বাদিকে সমুদটি
পড়েছিল। সমুদ্র পার বরাবর এতো দোকান হয়ে গেছে যে, সমুদ্রোটিকে আর ভালো
ভাবে দেখা যায় না। আমরা ছিলাম স্বর্গদ্বারের কাছে হোটেল "রঘুবীর
নিবাসে"। আমাদের অটোওয়ালাটি অটো স্টেন্ডে প্রথমে চেয়েছিল ২৫০টাকা। পরে
হোটেলের সামনে এসে ১৫০টাকা নিতে রাজি হলো। পর দিন সকালে সমুদ্র বীচে
গেলাম। বেলা ১০ সময় বাবু পান্ডার সাহায্যে মন্দিরে পূজা দিলাম। ঐ দিনটি
কাটলো আমাদের ভোগ খাওয়ার মধ্য দিয়ে। মন্দিরে আমরা পশ্চিম গেট দিয়ে
ঢুকলাম, ঐ গেট দিয়ে ঢুকে দেখি ঠেলা ধাক্কার মতো অবস্থা। তৃতীয় দিনে
আমরা গোপাল কিনলাম। জামাকাপড় এবং তার অলঙ্কারাদি কিনলাম। চতুর্থ দিন
সকালে আমাদের ফেরার ট্রেন। খুব ভোরে উঠলাম। আমাদের ট্রেন পুরী-হাওড়া
শতাব্দী এক্সপ্রেস সকাল ৫.৪৫মিনিটে ছাড়বে। স্টেশনের গেট থেকে ব্যাটারি
চালিত গাড়ি আমাদের নিয়ে ট্রেনের দরজার সামনে গিয়ে দাড়ালো। আমাদের
কামরা ছিল"C 3" আমরা ট্রেনে উঠে পড়লাম। ঐ ট্রেনেও প্রথমে চায়ের উপকরণ
দিলো। টিফিন বন্দে ভারতের মতো ই। তারপর খড়গপুরে লাঞ্চ দিলো। লাঞ্চে ছিলো
ভাত, পরোটা, ডাল, দ ই, জ্যাম, জেলি, আচার ,চিকেন ও একটি হ্যান্ড
স্যানিটাইজারের স্যাসে। আমরা ট্রেন থেকে ঠিক সময় অর্থাৎ ১.৪০মিনিটে
হাওড়ায় নামলাম। ওখান থেকে ব্যাটারি চালিত গাড়ি করে ট্যাক্সি
স্ট্যান্ডে এলাম, খান থেকে ট্যাক্সি বুক করে হৈ হৈ করতে করতে বাড়ি ফিরে
এলাম।