রাঙা দোলের স্বরলিপি

উজ্জ্বল দাস,

কোলকাতা

ধামসা, মাদলের দেশে
মনে মনে পলাশ মেশে,
আগুনা ফাগুন রঙে
আবির মাখা রঙিন ঢঙে।
~~~~~~~~

আমার খোঁপার নির্লজ্য কিংশুক
তোমার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে চাইছে।
তোমার হাতের নরম আবিরে-
হয়ে উঠতে চাইছে রক্তিমাভ।
দেবে কি আমায়?

পক্ষীরাজের গায়ে গায়ে লেগে থাকা
চন্দ্রকলার নির্যাস-
উস্কোখুস্ক করে দিচ্ছে বর্বরতা-
তোমার বাহু জুড়ে বিভঙ্গ নাগপাশে
আবদ্ধ করছে আমার অস্তিত্ব।
সোঁপে দিয়েছি নিজেকেই।

~~~~~~
(গান ব্যাকগ্রাউন্ডে- “আমার অঙ্গে অঙ্গে, কে বজায় বাঁশি)
~~~~~~~

কনকাঞ্জলি দিয়েছি নিজেকে-
তোমার নির্ভয় বুকে একটা গোটা ফাগুনী মেলা।
আমাকে উন্মুক্ত করার নেশায় তুমি-
আমি তখন আবিরের গন্ধে মাদক সেবনে ব্যস্ত।
আমার সর্পিল ব্যাকলেসে তোমার রংবাহারি আল্পনা-
হয়তো বা তুমিও চোখ বুজে।
রং জানিনা,
বসন্তের গন্ধ মেখে পলাশ পানে মত্ত দুটো হৃদয়।

একদল সাঁওতাল কোনো এক ফাগুনী রাগে-
মন রাঙিয়ে চলেছে।
চোখ জুড়ে তখন বাহারি শিমুল পলাশের সখ্যতা।

(টিউন- পিন্ধারে পলাশের বন)

ধামসা মাদলের শব্দ ধীরে ধীরে কমে আসছে কানে।
মনে মনে পলাশ মিশে হয়ে উঠছে রঙিন।
একাকার হয়ে উঠছে নিভৃতে -
অর্ধনিমিলিত লাজুক নয়ন।

চোখে তখন ফাগুন নামে
মন রাখা থাক একটা পলাশ খামে।
আমার অঙ্গে অঙ্গে তখন তোমার আঙুলের স্বরলিপি।

(টিউন- তোমার অশোকে কিংশুকে)

লিখে যায় সুর, এঁকে যায় গান
বুঝিবা সুর, কিংবা লয়- ছন্দ...
বিরাজমান।