স্বপ্নচারিনী
অর্পন বিশ্বাস,
কলকাতা
আমি এক স্বপ্নচারিনী কে দেখেছি।
তার বিদ্রোহী চোখে একরত্তি মেয়ে,
আজ শোনাবো তার গল্প,
অনেকটা সময় পিছিয়ে গিয়ে।
শ্রাবণ মাসের একলা হাওয়ায়
তার ক্লান্ত দুচোখ ঘড়ির ফ্রেমে।
ব্যস্ত জীবন করছে অপেক্ষা,
বাড়ি যাবে সে ফিরতি ট্রেনে।
অনেক দূরের শহর ছেড়ে
ফেরার পালা মাটির গন্ধে,
স্টেশন চত্বরে মৃদু আলো,
ধীর পায়ে নামছে সন্ধ্যে।
আমি তখন দূরে দাঁড়িয়ে
মলিন দৃষ্টি তার দিকে,
জলন্ত সিগারেট ঠোঁটের কোণে
তীব্র শব্দে সব হলো ফিকে।
একরাশ মিথ্যে কোলাহল নিয়ে
লোহার গাড়িটা যখন গেল চলে,
প্ল্যাটফর্ম আবার শূন্য হলো
কাউকে কিছু না বলে।
অলীকের বসে আমি
খানিকটা দূর এগিয়ে গিয়ে,
সাদা খামে চোখ আটকে গেল
নিস্তব্ধতা কে উড়িয়ে দিয়ে।
এখন হাতের উপর খোলা চিঠি
সঙ্গে ছিল কিছু টাকা।
বুঝতে গিয়ে লেখার অর্থ,
দেখলাম একটি নিখুঁত-বিকৃত ছবি আঁকা।
অদ্য থেকে প্রান্ত পড়তে গিয়ে
শিহরিত হলাম বারবার,
গল্পটা বড়োই কঠিন,
যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলার।
চিঠিটা বুকপকেটে ভরে
একরাশ বেদনাকে সঙ্গী করে,
ফিরতি ট্রেনে ঘরে ফেরা
অবসাদের বোঝা মাথায় করে।
পরের দিন সকাল থেকেই
আকাশের মুখ গোমরা ছিল,
খানিক পরে ঝমঝমিয়ে
বৃষ্টি আমায় কাঁদিয়ে দিল।
বন্ধ ছিল অফিস পাড়া
তাই পা চালিয়ে, বৃষ্টি মাথায়
প্লাটফর্মে সেই জায়গায়
দাঁড়িয়ে আমি তাঁর অপেক্ষায়।
বিকেল হতেই, গর্জে আকাশ
কৈফিয়ৎ আমায় ঘিরে ধরে
ছাতা হাতে খানিক পরে
মুখ ফিরিয়ে পেলাম তারে।
দৌড়ে গেলাম সেদিক পানে
দিলাম খামটা হাত বাড়িয়ে
নিজের জিনিস চিনতে পেরে
চাইলো সেটা দু-হাত ছাড়িয়ে।
চিঠিটা আমি দেওয়ার আগেই
বাগিয়ে নিলো আমার থেকে
ওর চোখে ছিল বিদ্রুপ ভরা,
পুরুষ মানুষের সৃষ্টি দেখে।
দমকা হাওয়ায় উড়িয়ে ছাতা
স্নেহ ভরা দু-চোখে চেয়ে
আমি দেখলাম এক স্বপ্নচারিনী
তাঁর চোখে ছিল একরত্তি মেয়ে।