স্কুলের পুজো

সুব্রত ঘোষ,

নতুন দিল্লি

তোমার পুজোয় কবিতা লেখে আশীষ পুলক শ্রীজাত
লিখতে বসে আমিই কেবল গুলিয়ে ফেলি
হে বীণাপানী, হে সরস্বতী, বিদ্যার দেবী মাতঃ।

হঠাৎ যখন খোলে আমার ফন্তু-স্মৃতির ঢাকনা
ছোটবেলার স্মৃতিগুলোয় গজায় তখন পাখনা।

মন আমাদের ছিল তখন অপার খুশি ভরা
হাসি মজার মধ্যে চলতো মোদের লেখা পড়া।

ঘন্টা শুনেই দৌড়ে যেতাম বাড়ির পাশেই স্কুলে
পুজোর দিনে পড়াটাকেই দিতেম শিকেয় তুলে।

পড়া না-পড়া বই পত্তর গুছিয়ে আগের রাতে
রেখে দিতাম বেদীর উপর বইপুজো হয় যাতে।

উত্তেজনায় ঘুম হোত না বেরোতাম রাতের অন্ধকারে
ফিরতাম ভোরের আগেই পড়শীদের ফুলগুলো চুরি করে।

করতাম চুরি গন্ধরাজ গাঁদা মল্লিকা টগর বেল ফুল
নাগাল পেয়েও ছুঁতাম নাকো নিচু গাছের মিষ্টি টোপাকুল।

ভাবতাম তখন চুরির ফুলে বাগদেবীর পুজো হলে
সব স্যারেরাই নম্বর দ্যান এক্কেবারে হাতখুলে।

এই ধারণাই ছিল আমাদের যা মাথামোটাদেরই কথা
বিশ্বাস করতাম বীণাপানী বোঝেন পড়ুয়ার মনোব্যথা।

আগের দিন চটের গায়ে ঘসতে হতো নৈনীতাল আলু
তবু লুচি আলুরদম বেশি বেশি পেত তারাই
করতো যারা চাপলুসি আর ছিলো যারা চালু।

লুচি আলুরদম চাটনির পরে রঙিন বোঁদে পড়তো পাতে
পেতাম আমরা শুধু একবার কিন্তু ওরা পেত
সেটা ঠিক দুবার করে পাতের পরেও হাতে।

সন্ধ্যে থেকে জলসা হতো চলতো আড়াই ঘন্টা
চাপলুসরাই করতো তখন গানের সঙ্গে ডান্সটা।

পরের দিনে সকাল থেকেই মন হারাতো ছন্দ
স্কুলের সামনে লরি মানেই বিসর্জনের গন্ধ।

বিসর্জনে মন খারাপেও লরি চড়ার মজাই ছিল সার
'আসছে বছর আবার হবে বলে সবাই করতাম চিৎকার।

এই সুবাদে বাগদেবী তোমায় জানাই আমি মাগো
হাঁসের পিঠে মৃন্ময়ী মা একবার চিন্ময়ী হয়ে জাগো।

পেটের দায়ে দেশের অনেক দুঃস্থ মেয়ে আর ছেলে
পড়া ছেড়ে খুশি থাকে কিছু পয়সা হাতে পেলে
বুদ্ধি থেকেও স্কুলে যারা পারে না যেতে আজও
নষ্ট কেন হবে মাগো তাদের সবুজ শৈশবও ?

তাদের প্রতি দরদ যদি মা থাকে তোমার মনে

শিক্ষার দীপ জ্বালাও দেবী ওদের ছোট্ট সবুজ প্রাণে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে
তারাও যেন রোশন করে বিশ্বসভা বিদ্বজনের ডাকে।।