নিরামিষ রান্নার মধ্যমণি- প্রথম পাতে শুক্তোনি
মনিকা পুরকাইত,
পোর্ট ব্লেয়ার, আন্দামান
বাঙালির পাতে প্রথম থেকেই উপস্থিত শুক্তো।
এখনও অনেকে শুক্তো বলতে শুধুমাত্র তেতোকেই বোঝেন। বাঙালির সামাজিকতায়
বরাবরই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়ে এসেছে পদ। তখন শুক্তো রান্না করা হত-
বেগুন, কুমড়ো, কাঁচকলা, মোচা ইত্যাদি সহযোগে আর গুঁড়ো বা বাটা মশলা
দিয়ে।
বাঙালির জীবন যেরকম বিচিত্র তেমনই রান্নায়। একটা জাতি গোটা বিশ্বের কাছে
সুপরিচিত তাদের খাদ্যাভ্যাসের গুণে। কেউ খেতে ভালবাসেন, কেউ খাওয়াতে, কেউ
বা ততটা খেয়ে উঠতে না পারলেও খাওয়ার গল্প শুনতে ভালবাসেন। বাঙালির
আত্মপরিচিতির বেশ অনেকটাই খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে।
বাঙালি হেঁশেলে আজ যে আলু, টমেটো এবং কাঁচালঙ্কার এত কদর তা কিন্তু
পর্তুগীজদের দান। যতই ডায়াবিটিসের চোখরাঙানি থাক না কেন, বাঙালির সব
রান্নাতেই মধ্যমণি হয়ে বসে থাকেন আলু। এছাড়াও পার্শ্বচরিত্র হিসেবে লাউ,
কুমড়ো, পটল, ঝিঙে, উচ্ছে, কাঁচকলা এরা তো আছেই। তাই আজ রইল বাঙালির
প্রিয় শুক্তোর এই পুরনো রেসিপি।
উপকরণ
আলু
বেগুন
উচ্ছে
পেঁপে
সজনে ডাঁটা
রাঙাআলু
বরবটি
কাঁচকলা
রাঁধুনি- ১/৪ চামচ
মেথি- ১/৪ চামচ
মৌরি-১/৪ চামচ
আদা-৮ গ্রাম
পোস্ত- দেড় চামচ
সরষে- ১ চামচ
বড়ি
দুধ- ১ কাপরান্নার জন্য প্রয়োজনমতো তেল, নুন, চিনি
স্টেপ ১
শুক্তোর জন্য সবজি গুলো লম্বা করে কেটে নিন। এবার শুকনো কড়াইতে রাঁধুনি,
মেথি, মৌরি নেড়ে নিয়ে শিলে বেটে ফেলুন। এই গুঁড়ো মশলাই রান্নার শেষে
ব্যবহার করা হবে। পোস্ত আর সরষে বেটে নিন।
স্টেপ ২
এবার কড়াইতে সরষের তেল দিয়ে একে একে সবজি গুলো ভেজে নিন। এবার দুচামচ ঘি
গরম করুন কড়াইতে। ওর মধ্যে রাঁধুনি, তেজপাতা, সরষে ফোড়ন দিন।
স্টেপ ৩
আদা বাটা আর পোস্ত বাটা দিন। এবার উচ্ছে আর বেগুন বাদে বাকি সবজি দিয়ে
ভালোভাবে নাড়ুন। নুন দিন দু চামচ। ঢাকা দিয়ে রাখুন পাঁচ মিনিট। সবজি
খানিক সেদ্ধ হয়ে এলে বেগুন দিন। বেটে রাখা সরষে দিন।
স্টেপ ৪
এবার বড়ি দিন। সেই সঙ্গে ১ কাপ দুধ। ফুটে উঠলে উচ্ছে ভাজা দিন। আর
রান্না শেষ করার আগে ভেজে রাখা মশলা, স্বাদমতো চিনি, সামান্য ঘি দিয়ে
নামিয়ে ফেলুন।