শীতে ত্বকের যত্ন

সুচিত্র রঞ্জন পুরকাইত,

ডায়মন্ডহারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

হিমেল হাওয়া বইছে, আসছে শীত। আমাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা যায়। এ ধরনের পরিবর্তন কোনো রোগের জন্য নয়, বরং আমাদের শরীরকে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য ত্বক খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে যাঁদের ত্বক শীতল আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেন না, তাঁদের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

আসুন জেনে নেওয়া যাক শীতে নিজের ত্বক ভালো রাখতে যে সহজ নিয়ম মেনে চলতে হবে:-

১. একটু বেশি জল খান:
অনেকে শীতকালে জল কম খান, যা মোটেও ঠিক নয়। বরং শীতকালে জল বেশি খেতে হয়, যাতে ত্বক আর্দ্র থাকে। অনেকে শীতের কারণে স্নান করা থেকে বিরত থাকেন, এটাও ঠিক নয়। শীতে প্রতিদিন সামান্য উষ্ণ জলে স্নান করা প্রয়োজন। তবে বেশি উষ্ণ জল ব্যবহারে ত্বক আরও শুষ্ক হতে পারে।

২. ত্বকের আর্দ্রতায় লোশন বা তেল:
শীতের শুরুতে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়, ঠোঁট ফেটে যায়, হাত ও পা ফেটে যেতে পারে, ফলে চুলকানিও হতে পারে। তাই ত্বক শুষ্ক হলে পেট্রোলিয়াম জেলি, অলিভ অয়েল, বডি লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। তবে সবচেয়ে উপকারী হলো প্রাকৃতিক অলিভ অয়েল, এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত থাকে না। স্নানের পর অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো। তবে শর্ষের তেল ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে অনেক সময় বিশুদ্ধ নারকেল তেল ব্যবহার করা যায়। শীতকালে যেহেতু জল কম ব্যবহার করা হয়, সে কারণে খোস-পেঁচড়া বা চুলকানির প্রকোপ বাড়ে, যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে। দীর্ঘদিন চুলকানি থাকলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ হয় এবং জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের চুলকানি হলে দেরি না করে চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নেওয়া দরকার, যাতে কোনো ধরনের জটিলতা না হয়।

৩. ঠোঁট থাক আর্দ্র:
ঠোঁটে যেকোনো ধরনের লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো যাবে। পায়ের গোড়ালি ফেটে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়মিত ব্যবহার করা এবং সুতির মোজা পরতে হবে।

৪. সুতি কাপড় পরুন:
যাঁদের অ্যালার্জি জনিত সমস্যা আছে, তাঁরা ভেতরে সুতির জামা পরে তার ওপর উলের কাপড় পরতে পারেন।

৫. গায়ে রোদ লাগান:
শীতে প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে থাকা দরকার। এতে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাবে। ভিটামিন ডি ত্বককে সুন্দর ও মসৃণ করে এবং বার্ধক্য রোধ করে।