ঠিকুজি
সঈদ উল ইসলাম,
বসন্তপুর, ডায়মন্ড হারবার
ভূগর্ভস্থ জরায়ু ভেদ করে
নাকি বেরিয়ে এসেছে সভ্যতা
তাই তার জন্ম ঠিকুজি খুঁজতে নামিনি গভীরে
গভীরতার কাছে হার মেনে
নিজেকে গুটিয়ে ফেলি অরণ্যে
আটপৌরে বাড়িটা শেষ হয়ে গেল প্লাবনে
শেষ হলো পুব আকাশের রামধনু রংটা
তবু আমি শেষ হইনি।
এখন শূন্যের গভীরতা মাপছি গোপনে
দেখছি মহাশূন্যের লীলায়িত খেলা
শুধু বাঁচার তাগিদ খুঁজতে বেঁচে আছি
ভালো আছি--
এই তো বেশ আছি।
ভাঁঙাগড়া
সঈদ উল ইসলাম,
বসন্তপুর, ডায়মন্ড হারবার
সে ভাঁঙছে-- প্রবাহমান ঝর্ণার মত
ভাঁঙছে গভীর রাতগুলো
অশান্ত বিছানায় শুয়ে শুয়ে দেখি
ভাঁঙাগড়া খেলাদের হাসি কান্না
মন সায় দেয় রঙিন প্রজাপতিতে
কখন যেন আমিও ভেঁঙে গেছি গভীরে।।
অন্তরস
সঈদ উল ইসলাম,
বসন্তপুর, ডায়মন্ড হারবার
চোখের ভিতর জেগে থাকা আকাশ গুলো
মাঝে মাঝে বৃষ্টি দেয় গোপনে
ওরা নিস্তব্ধতা ভেদ করে--
বৃষ্টি নামায় অরক্ষিত হৃদয়ের শুষ্ক জলাভূমিতে
জেগে ওঠে পরিত্রাতা দেহ
শাসক বাস্তু তন্ত্রের ঘ্রাণ গুলো
শুঁকতে শুঁকতে ভুলে যাই
নৈবেদ্যে বাধা জীবনের স্বরলিপি
গহন অরণ্যে বাঁধা থাকে প্রাণ ভোমরা
কুরে কুরে খাচ্ছে অসংখ্য ঋতুরস
কোন একদিন হয়তো বা সেই রস
পৌঁছে যাবে জ্বলন্ত আগুনে
ছাই ঘেঁটে খোঁজা হবে তারই অন্তরস।।
প্রেম পর্ব
সঈদ উল ইসলাম,
বসন্তপুর, ডায়মন্ড হারবার
এক একটা কঠিন রাত শেষ হলে
এক একটা কঠিন দিনের অপেক্ষায় থাকি
যদি ফেরে তার পদধ্বনি
প্রেমের গায়ে কাপড় চড়িয়েছি
অনেক কাল আগেই
পরিয়ে দিয়েছি ভালোবাসার নাকছাবি
আর মন মাতানো দূল
জন্ম-জন্মান্তরের ভাগচাষি হয়ে থাকার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছি উলঙ্গ ছাতনা তলায়
তবু সে অবয়ব ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে অন্য পথে
একেবারের মত--
সুমেরুর খোঁজে দিক থেকে দিগন্তে।।