তীরে ফেরা ঢেউ (পর্ব- ৭)

অনিন্দিতা গুড়িয়া,

নিউ-দিল্লি


পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য লাইব্রেরি বিভাগে দেখুন...

দু বছর আগের ঘটনা.........
সেদিন সকাল থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, আকাশের মুখ ছিল একেবারে থমথমে। বেশ কিছুদিন ধরে স্বপ্না হাঁটুর ব্যথায় খুব ভুগছিল। কত পেন কিলার খেলো কত যে তেল দিয়ে মালিশ করল, ঠান্ডা গরম সেঁক করল কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। তাই উর্মিলা আর স্বপ্না দুজনে দুটো ছাতা বগলদাবা করে উর্মিলাদের হোমেরই একজনের থেকে জেনে নিয়ে স্বপ্না আর উর্মিলা গেছিল একজন কবিরাজি ডাক্তারের কাছে। এলাকাটা ওদের একেবারেই অচেনা, অনেক খুঁজে খুঁজে তারপর ওরা পৌঁছে ছিল ডাক্তারের কাছে।

ডাক্তারের চেম্বারের কাছেই উর্মিলা আর স্বপ্না একটা বেশ বড়সড়ো বাজার দেখেছিল। পরের দিন ছিল সিধুর জন্মদিন। উর্মিলা মনে মনে ভেবেছিল ফেরার পথে সেখান থেকেই কিছু বাজার নিয়ে ফিরবে। সেই মতো দুজন ওরা ডাক্তারে দেখিয়ে ওষুধপত্র নিয়ে ফেরার পথে বাজারের মধ্যে ঢুকলো। সিধুর জন্মদিন বলে কথা, তাই একটু স্পেশাল কিছু রান্না করার জন্য স্বপ্না ও নিজের হাঁটুর ব্যথা নিয়ে উর্মিলার সাথে সাথে টুকিটাকি এটা ওটা বাজার করছিল দুজনে। মাঝখান থেকে সরু সরু গলিপথ আর দুদিকে দোকান বাজার নিয়ে বসে আছে দোকানিরা। বেশ বড়সড়ো জমজমাট বাজার, কি নেই সেই বাজারে! তাজা ফল, সবজি, মাছ, মাংস, মুদিখানা, মিষ্টি, নিমকি, চানাচুর, মুড়ি, সবই পাওয়া যায়। সে সময় বাজারে খুব একটা ভীড় না থাকলেও বেচাকেনা টুকটাক চলছিলই। এরই মাঝে হঠাৎ করেই ওই সরু গলি পথ দিয়ে বেল বাজিয়ে বাজিয়ে একটি ছেলে হুরমুড় করে সাইকেল নিয়ে এগিয়ে এলো। ভয়ে তো স্বপ্না অস্থির, প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। কোনক্রমে নিজেকে সামলে নিল, মুখ দিয়ে বলেই ফেলল -

- কি বদমাইশ ছেলে রে বাবা, এরকম সরু গলিপথে কেউ এইভাবে হুড়মুড় করে সাইকেল চালায়! একটুও কান্ডজ্ঞান নেই।
ছেলেটা বোধহয় শুনতে পেয়েছিল তাই একটু দূরে গিয়েই সাইকেলটাকে দাঁড় করিয়ে পেছনে মুখ ঘুরিয়ে বলল -
-কি করব ডার্লিং, বড্ড তাড়া আছে যে। তাই তো এ পথে এভাবে যাচ্ছি। বলেই আবার সমান গতিতে এগিয়ে চলে যায়।
- দেখলি? দেখলি উর্মিলা, আজকালকার দিনের ছেলে ছোকরা, নাক টিপলে দুধ বেরোবে আমায় বলে কিনা ডার্লিং, একেবারে এঁচড়ে পাকা, ডেঁপো ছেলে একটা। এসব ছেলের কোন ভবিষ্যৎ আছে? অকাল কুশ্মাণ্ড, বাপ মা-র থেকে কোন শিক্ষা পেয়েছে বলে তো মনেই হয় না।

উর্মিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল, দোকানিরা কেউ কোন প্রতিবাদ তো করলই না উল্টে একটু হাসাহাসিই করছে। এ যেন ওদের নিত্যদিনের ব্যাপার।

যাইহোক এরপর স্বপ্নার জোরাজুরিতেই অল্প একটু বাজার করে উর্মিলা আর স্বপ্না সেদিনের মতো ফিরে আসে।

পরের দিন সিধুর জন্মদিনে হোমের সবাই মিলে একসাথে বেশ সুন্দর হই হই করে পালন করে দিনটি। সিধু আবার ছবি তুলতে ভীষণ ভালোবাসে, প্রতিটা মুহূর্তের ছবি ক্যামেরা বন্দী করে সে পাঠাচ্ছিল উর্মীর কাছে।

কবিরাজি ওষুধটা সপ্নার ভালই কাজে দিয়েছে, দুদিনে হাঁটুর ব্যথাটা অনেকটা কমেছে। তাই স্বপ্না ভাবলো আবার পরের সপ্তাহে ডাক্তারের কাছে যাবে। সেইমত আবার দুজনে ওরা পরের সপ্তাহে ডাক্তারের কাছে বেরোলো। পথে বাজারটা যেন চুম্বকের মত টান ছিল উর্মিলাকে। সেদিন তখন ডাক্তারখানায় বেশ ভিড়, ওরা ডাক্তারখানায় পৌঁছে সপ্নার নাম লেখালো। যে ছেলেটা রোগীদের নাম লিখছে তার থেকে জানতে পারলে যে সপ্নার নাম ডাকতে প্রায় এক দেড় ঘন্টা লেগে যাবে। উর্মিলা বলল-

- যাবি সপ্না, ততক্ষণ এই পাশের বাজারটা একটু ঘুরে আসি।

স্বপ্না মুখ বেঁকিয়ে বলল-

- না না বাবা, আগের দিন বাজারে যা হলো ভুলে গেলি? আর তার ওপর আমার হাঁটুতে এমনিই ব্যথা, আমি বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারব না। আমি এখানেই বসে অপেক্ষা করছি, তোর সাধ থাকে তো তুই ঘুরে আয়।

উর্মিলা একবার ভেবেছিল সপ্নার সাথে ডাক্তারখানাতেই বসে থাকবে কিন্তু খুব বেশিক্ষণ বসতে পারল না, ওইসব রোগীদের মাঝখানে ওর বসে থাকতে ভালো লাগলো না। তাই ও ডাক্তারখানা থেকে বেরিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলো বাজারের দিকে।

বাজার ভরা তাজা ফল সবজিতে। দেখে দেখে উর্মিলার এত ভালো লাগছে যে কোনটা ছেড়ে কোনটা নেয়! কিন্তু খাবার লোক তো ওরা তিনজন, তার উপরে সিনিয়র সিটিজেন। অতএব অনেক বেছে গুনে তবেই খাবার খেতে হয়। যাই হোক টুকিটাকি ফল সবজি কিনে উর্মিলা একটু এগোতেই দেখল একটা বেশ সুন্দর গোছানো ফলের দোকান। আর সেখানে সাজিয়ে রাখা আছে তাজা আমসত্ত্ব। উর্মিলার ছোটবেলার স্মৃতি যেন মনের মধ্যে জেগে উঠলো। তখন উর্মিলা বোধ করি প্রাইমারি সেকশনে পড়ে। ওর বাবা প্রায় প্রতি রবিবার সকালে ওকে হাত ধরে বাজারে নিয়ে আসতেন। আর শাকসবজি মাছ-মাংসের সাথে ওকে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতেন ফল দোকানের সামনে। আর বয়াম থেকে নিজে হাতে করে বের করে দিতেন হলুদ কাগজে মোড়া নরম আমসত্ত্ব। উর্মিলার মনটা ছোটবেলার সেই ছোট্ট উর্মিলাতে পরিণত হল যেন। তবে আজকে আর পাশে বাবা নেই। বাবা গত হয়েছেন অনেকদিন হলো। তারও অনেক আগে থেকেই বাবার সাথে যোগাযোগ নেই, যখন থেকে নিজের ইচ্ছে ও বিয়ে করেছিল সুহাস কে।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উর্মিলা আমসত্ত্বের দামদর করে বয়াম খুলে আমসত্ত্বের একটা ছোট প্যাকেট হাতে নিয়ে দোকানী কে দিল ওজন করার জন্য। আবারো সেই দিনের সেই ছেলেটাই হুড়মুড়িয়ে ঢুকলো দোকানে, ঢুকেই দোকানদারকে তাড়া লাগাতে লাগলো

- বসন্ত দা কুইক কুইক যত আমসত্ত্ব আছে সবটাই আমাকে প্যাক করে দিয়ে দাও। আজ বড্ড দেরি হয়ে গেছে।

দোকানীর নাম বোধহয় বসন্ত, সেও অম্লান বদনে বেশ খুশিতেই ছেলেটির কথা মতো বয়ামের সমস্ত আমসত্ত্বগুলো তো দিলই সাথে উর্মিলা যে আমসত্ত্বটি ওজন করার জন্য দিয়েছিল সেটিও প্যাক করে ছেলেটির হাতে ধরিয়ে দিল। উর্মীলা বলল

- ভাই আমি তো আপনাকে ওই আমসত্ত্ব টি আমার জন্য দিতে বললাম।

দোকানদার বসন্ত বলল

- আমাকে মাফ করবেন দিদিভাই, আমি অপারক। আমাকে দাদা ভাইয়ের কথা শুনতেই হবে। আপনি বলেন অন্য কোন দোকান থেকে আমসত্ত্ব নিয়ে নিন।

ছেলেটি কোন কথা না বাড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে আমসত্ত্বের প্যাকেট নিয়ে যেন প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে। উর্মিলা ভারী অবাক হল আর মনে মনে খুব বিরক্তও হলো।

উর্মিলা ভাবলো ছেলেটি কি স্থানীয় কোন গুন্ডা মাওয়ালি নাকি! আমসত্ত্বের জন্য কোন টাকাও দিল না অথচ সমস্ত আমসত্ত্ব গুলোই নিয়ে চলে গেল দেখে কিন্তু গুন্ডা বদমাইশ বলে মনে হয় না কিন্তু ব্যবহার যা গুন্ডা বদমাইশ না হয়ে যায় না।

তবে ছেলেটির ব্যবহার যেমনই হোক না কেন উর্মিলা যেন ওর মধ্যে যেমন একটা আকর্ষণ অনুভব করছে, কেন হচ্ছে সেটা উর্মিলা নিজেও জানে না।

সেদিনের মত উর্মিলার বাজার করা থেকে মন ভেঙে গিয়েছিল আর কোন দোকানে না গিয়ে আমসত্ত্ব না কিনে সে সোজা চলে এসেছিল স্বপ্নার কাছে। তারপর সপ্নার ওষুধ নেওয়া হয়ে গেলে দুজন মিলে আবারও গাড়ি ধরে ফিরে এসেছিল নিজেদের হোমে।

পথে আসতে আসতে স্বপ্না বকবক করে যাচ্ছে, ডাক্তার ওকে কি খেতে বলেছে, কি খেতে বারণ করেছে, কেমন করে ওষুধ ব্যবহার করতে বলেছে বা অন্যান্য রোগীরা কার কি রোগের জন্য এসেছে? কী রোগ ভালো হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি বলে যাচ্ছিল। উর্মিলার সেসব বিষয়ে কান নেই, সে কোন উচ্চবাচ্যাও করছে না দেখে স্বপ্না তাকে ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞেস করল

- কিরে উর্মিলা কিছু উত্তর করছিস না যে?

উর্মিলা শুধু মৃদু স্বরে একটু হুঁ বলল। একটা আসলে তার মনের মধ্যে বাজারের সেই মুহূর্তের ঘটনা যেন রিপ্লে হচ্ছিল। স্বপ্না বলল

- তুই কি শুনেছিস, আমি কি কি বললাম? তোকে এত অন্যমনস্ক লাগছে কেন?

উর্মিলা বলল

- না তেমন কিছু নয়

সপ্না বলল

- তোকে এত চুপচাপ তো সহজে দেখি না, কিছুতো একটা হয়েছে? কি হয়েছে আমায় খুলে বল।

উর্মিলা তখন বাজারের সব ঘটনা বলল। সব শুনে স্বপ্না বলল

- আবার সেই বদমাইশ ছোঁড়াটার সাথে তোর মুলাকাত হলো! উফ কি সাংঘাতিক! পুরো বাজার দোকানের লোকজনদেরকে হাতের মুঠোয় রেখে নিয়েছে! এ খুব বড় মাপের কোন গুন্ডা বদমাইশ বা ওই এলাকার দাদা না হয়ে যায় না।
- কি জানি, কিন্তু ওর মধ্যে এমন কিছু আছে রে স্বপ্না যে আমাকে ভাবতে বাধ্য করছে। ওই মুখ যেন আমার খুব চেনা, খুব জানা! কিন্তু কোথায় যে দেখেছি মনে পড়ে না। ওর মধ্যে এমন তো কিছু আছে যা আমাকে ভাবতে বাধ্য করছে, আমাকে বারবার ওর কাছে যাওয়ার জন্য যেন ভেতর থেকে কোন তাগিদ অনুভব করছি।

- হ্যাঁরে ছুড়ি হ্যাঁ, এই ৭০ বছর বয়সে এসে মনে হয় আবার নতুন করে তুই প্রেমে পড়েছিস। কচি ছোঁড়া দেখেছিস কিনা? নে নে নাগর জুটিয়ে নে।

বলেই সপ্না চোখ টিপে গা ঠেলে হাসলো একচোট । কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে উর্মিলা বলল

- যাঃ কি যে বলিস না তুই, বয়স কত ছেলেটার? বড়জোর ২৪, ২৫ বছর হবে, কি তারও কম। তোর কি মাথা টাথা খারাপ হলো? কি বলতে কি যে বলিস তা বুঝিনা বাপু।

কি জানি স্বপ্নার কথায় উর্মিলার মনের কোন তারে টংকার অনুভব হলো? মনে মনে উর্মিলা বলল পরের দিন আবার যদি ছেলেটার সাথে দেখা হয় বেশ একচোট কথা শুনেই ছাড়বে। যাইহোক আবার দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ কেটে গেল। ডাক্তারখানায় যাবার দিন যত এগিয়ে আসছে উর্মিলার মন ততই যেন আনচান করছে। কি জানি আবার দেখা হবে তো ছেলেটার সাথে!

সপ্নার ডাক্তার এক সপ্তাহের বেশি ওষুধ দেন না, স্বপ্না কিন্তু এখন অনেকটাই ভালো আছে। উর্মিলার মনের মধ্যে সপ্নার সাথে যাবার ইচ্ছে ষোল আনা কিন্তু সেটা প্রকাশ হতে দিল না কিছুতেই। যেন স্বপ্নার জোরাজুরিতে পেরাপিড়িতে যেতে হল সপ্নার সাথে ডাক্তারের কাছে।

আবারও সেই একই পথ, একই বাজার, একই রকম ভিড় ডাক্তারখানায়। বাজার করতে উর্মিলা বরাবরই ভালোবাসে। তবে এই বাজারে যেন শুধু বাজার করা নয় আরো কিছু আছে যার টানে উর্মিলা আবারও বাজারের দিকে এগিয়ে গেল। তবে আজ সাথে আবারো স্বপ্না আছে। বাজারে ঢুকে ইস্তক উর্মিলার চোখে যেন সেই ছেলেটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, কান যেন উৎকীর্ণ হয়ে আছে ছেলেটির কণ্ঠস্বরার জন্য। ওরা দুজনে ঘুরে ঘুরে দেখে শুনে এটা ওটা বেছে গুনে ব্যাগ প্রায় অনেকটাই ভরেছে, এমন সময় বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ ঝমঝমিয়ে অকাল বর্ষণ শুরু হয়ে গেল। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে স্বপ্না আর উর্মিলা কোনমতে একটি দোকানের শেডের নিচে আশ্রয় নিল। একেই বুঝি বলে 'যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়'- সেই আগের দিনের ছেলেটি বোধহয় আগে থেকেই দোকানের মধ্যে ছিল, কিছু কেনাকাটা করছিল। উর্মিলা আর স্বপ্না একে অপরের সাথে গল্পে মশগুল ছিল। এই বাজরে কি কি সস্তা পেয়েছে, কতটা তাজা পেয়েছে আর কি কি কিনবে ইত্যাদি ইত্যাদি গল্প করছিল দুজনে। হঠাৎই উর্মিলার কানে এলো আগের দিনের সেই ছেলেটির কণ্ঠস্বর। উর্মিলা পেছন ঘুরে দেখতে যাবে এমন সময় উর্মিলার কাধের ব্যাগে পড়ল এক

, উর্মিলা টাল সামলাতে না পেরে ব্যাগসহ প্রায় পেছনে হুমরি খেয়ে পড়ে গেল। টানটা আর অন্য কিছুতে নয় সেই ছেলেটির ছাতার টান। ছেলেটি একটা বড় দাদুর লাঠি ছাতা নিয়ে দোকানে ঢুকেছিল। দুহাত ভরে জিনিসপত্র নিয়ে ছাতা টি বগলদাবা করে দোকান থেকে বেরোনোর সময়ই ছাতার বাঁটে উর্মিলার ব্যাগের হ্যান্ডেল আটকে এই বিপত্তি। ব্যাগের প্রায় সব ফল সবজি ছড়িয়ে গেল এদিক ওদিক কিন্তু ছেলেটির মধ্যে কোনরকম ভয়ের বা লজ্জার ব্যাপার নেই। সে হাসিমুখে হাত আগে করে দিয়ে বলল

- ও ডার্লিং তুমি! আমি তো বুঝতেই পারিনি, এসো এসো দেখি তোমার কতটা লেগেছে।

স্বপ্না তো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো

- হতভাগা ছেলে, তিনদিন ধরে দেখছি তুমি আমাদের পিছা করছ। কেন কি চাও আমাদের থেকে? আর জানো আমাদের বয়স কত? নাক টিপলে দুধ বের হয়ে সে আমাদেরকে ডার্লিং বলে ডাকছে। তোমার সাহস তো কম নয়!

এবার ছেলেটি হো হো করে হেসে উঠল, তারপর বলল

- আমার শরীর নিয়ে তোমার এত ভাবতে হবে না

- ও ডার্লিং তুমি না বড্ড রগচটা। তবে এই মুহূর্তে তোমার শরীর নিয়ে আমি ভাবছিও না।

উর্মিলার দিকে ফিরে বলল

- এসো ডার্লিং! ওঠো, দেখি কোথায় তোমার লেগেছে।

বলেই খুব আদর করে উর্মিলাকে ধরে দাঁড় করালে ছেলেটি। আর তেমনি খুব দ্রুত হাতে ছড়িয়ে যাওয়া সমস্ত ফল সবজি ভরে দিচ্ছিল উর্মিলার ব্যাগের মধ্যে। কি যেন ছিল ছেলেটির কথায়, ছেলেটির ছোঁয়ায়! উর্মিলা মোহিতের মতো তাকিয়ে রইল ছেলেটির মুখের দিকে। ছেলেটি উর্মিলাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভালো করে দেখে নিল কোথাও কোন চোট আছে কিনা, তারপর বলল

- নাহ্, মনে হচ্ছে তেমনভাবে চোট লাগেনি। তবে এই বৃষ্টিতে তোমরা বাড়ি ফিরবে কি করে? এই নাও আমার ছাতাটি নিয়ে যাও।

বলেই বিনা বাক্য ব্যয়ে সেই বৃষ্টির মধ্যেই হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল দোকান থেকে। পিছন থেকে উর্মিলা চেঁচিয়ে বলল

- কিন্তু ছাতাটা ফেরত দেবো কিভাবে?

- কোন একদিন এসে এই বাজারের কোন দোকানে আমার কথা বলে ছাতাটি রেখে যাবেন আমি ঠিক পেয়ে যাব।

বলেই আর না দাঁড়িয়ে বৃষ্টি মাথায় দ্রুত চোখের আড়াল হয়ে গেল ছেলেটি।

সপ্না রাগে গজগজ করছে আর উর্মিলা হতভম্বের মতন ফেল ফেল করে চেয়ে রইল পথের দিকে, যেদিকে ছেলেটি এগিয়ে গেছে একটু আগেই।

ক্রমশ..............