ডব্লু.এইচ.ও
অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়,
নতুন দিল্লি
রবিবারের সকাল । ভদ্রলোক স্নানে যাওয়ার আগে দাড়ি কাটছিলেন আর গুন গুন করে
মনে মনে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছিলেন – “আমার হিঁয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে দেখতে
আমি পাইনি তোমায়, দেখতে আমি....” ।
ঠিক তখনই স্ত্রী মোবাইল হাতে ছুটে এসে একটি সংবাদ পরিবেশন করলেন—এই দেখ
খোদ ওয়ার্ল্ড হেলথ ওর্গানাইজেশনের রিপোর্ট অর্থাৎ W.H.O. –এর খবর । তোমার
ভাই সুজিতদা পাঠিয়েছেন । কি লিখেছে একবার পড়ে শোনাচ্ছি । মন দিয়ে শোন--
স্ত্রীর সাথে বাক্যালাপ করলে মনের অস্থিরতা হ্রাস পায়, হার্ট এ্যাটাক
হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় আশি সতাংশ ভাগ কমে যায়, পুরুষের নব্বুই সতাংশ ভাগ
স্ট্রেস কমে যায়, মানসিক অশান্তি এবং পীড়া থেকে পরিত্রান পাওয়ার একমাত্র
উপায় সময় বের স্ত্রীর সঙ্গে বাক্যালাপ ।
স্বামী অতিশয় কৌতূহলী হয়ে মন্তব্য করেন -- ওয়ার্ল্ড হেলথ ওর্গানাইজেশন
কবে থেকে এইসব আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছে ? তাঁদের কি খেয়ে-দেয়ে কোন কাজ
নেই নাকি ? কই দেখি একবার ম্যাসেজটা ।
হোয়াটসএ্যাপ ম্যাসেজটা সেই মূহুর্তে ইচ্ছাকৃত আঙ্গুলের চাপে মিটিয়ে দিয়ে
স্ত্রী বললে – এ মাঃ ! দেখলে কান্ডটা কথা বলতে বলতে হঠাৎ ডিলিট হয়ে গেল ।
তোমাকে দেখাবো বলেই তো এনেছিলাম ।
দাড়ি কাটার পরে কোন এক ফাঁকে স্ত্রীর অজান্তে স্বামী তার সমবয়সী পিসতুতো
ভাই সুজিতকে দ্বিতীয়বার ম্যাসেজটা পাঠাতে বলেন এবং তাঁকে সাবধান করতে
গিয়ে বলেন – এবার কিন্তু আমার মোবাইলে পাঠাবি ।
বিকেল বেলায় চা-সিঙ্গারা খাওয়ার অবসরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্বামী হাসতে
হাসতে জানালেন – ওয়াইফ হাসব্যান্ড ওর্গানাইজেশনের অর্থাৎ W.H.O. –এর
অসমাপ্ত খবরের বাকি অংশটুকু যেটা তোমার অন্যমনস্কতার কারণে ডিলিট হয়ে
গিয়েছিল সেটা ছিল এই রকম-- সেই স্ত্রী যেন কদাপি নিজস্ব বিবাহিতা স্ত্রী
না হয় । অন্যথায় “ঘটিবে তা হলে বিষম বিপদপাত” ।
তৎক্ষনাৎ স্ত্রী সেই স্থান ত্যাগ করার সময় বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন– অসভ্য
লোক কোথাকার !